বিএনপির হেল্প সেন্টারে অক্সিজেন খুঁজছে মানুষ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ০২:১৬ এএম

সারা দেশে বিএনপির জেলা কার্যালয়গুলোতে যে হেল্প সেন্টার করা হয়েছে, সেগুলোতে মানুষ সবচেয়ে বেশি খুঁজছে অক্সিজেন। কিন্তু হেল্প সেন্টারগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডার চাহিদার তুলনায় অনেক কম থাকায় সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বিএনপি নেতারা বলেছেন, হেল্প সেন্টারগুলোতে যে পরিমাণ অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এজন্য সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধÑ সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা হোক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গঠিত দলীয় কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা হেল্প সেন্টারগুলোতে মানুষ সবচেয়ে বেশি খুঁজছে অক্সিজেন আর ওষুধ। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি এগুলো সরবরাহ করার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন।’

সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেশি করে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি তা রিফিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও সরকারকে নিতে হবে।’

একই অনুরোধ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা দেশে করোনা রোগী বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সিট নেই। এ কারণে অনেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে বাসায় বসেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তখন তারা হন্যে হয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার খুঁজছেন। কিন্তু সবাই পাচ্ছেন না। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তখন সাধ্যমতো চেষ্টা করি।’

এদিকে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আমি আমার নির্বাচনী এলাকা হালুয়াঘাটে করোনা হেল্প সেন্টার খুলেছি। সেখানে অক্সিজেনের চাহিদা বেশি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। সরকারের উচিত হাসপাতালগুলোতে বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করা। বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন যৌথভাবে হটলাইনে রোগীদের চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন ছাড়াও আমরা পুরো কোর্সের ওষুধ দিচ্ছি, প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।’ তিনি জানান, দলের উদ্যোগে সারা দেশে এ পর্যন্ত ৬০টি করোনা হেল্প সেন্টার চালু করা হয়েছে।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রংপুর বিভাগের সব জেলাতেই করোনার প্রকোপ আছে। এ বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধায় করোনার রোগী বেশি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

সারা দেশে করোনা হেল্প সেন্টার পরিচালনা মনিটরিং করার পাশাপাশি সব ধরনের যোগাযোগ করছে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে। গুলশান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা দেশের হেল্প সেন্টারে কার্যক্রম চলছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আগামীকাল বুধবার (আজ) বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের নিজ নিজ বিভাগের জেলাগুলোর হেল্প সেন্টারের কার্যক্রমের সর্বশেষ রিপোর্ট দেবেন। সেগুলো পর্যালোচনা করে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘সারা দেশে যে হেল্প সেন্টার খোলা হয়েছে সেগুলোতে ফোন করে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সমন্বয় করা হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত বিএনপি নেতাদের সহায়তা করা হচ্ছে সার্বিকভাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত