শর্তসাপেক্ষে তালেবানের পাশে চীন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৫১ পিএম

দুই দশকের লড়াই শেষে আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনারা। পশ্চিমা সেনাবাহিনীবিহীন আফগানিস্তানে ক্ষমতাকেন্দ্রিক যে শূন্যতার তৈরি হতে যাচ্ছে তা পূরণে এশিয়াসহ পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহী। দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে চীন ও ভারত। সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালেবানের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছে। গতকাল বুধবার তালেবানের তরফে জানানো হয়েছে, দুদিনের এ সফরে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তাদের। এ বৈঠকে শান্তি প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা হবে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আফগানিস্তান পুনর্গঠনে শর্তসাপেক্ষে তালেবানদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে পেইচিং। সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান যদি ইস্ট তুর্কেস্তান ইসলামিক মুভমেন্টের (ইটিআইএম) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তবেই চীন তাদের সঙ্গে থাকবে। অনেক দিন ধরেই পেইচিং দাবি করে আসছে, তাদের শিনজিয়াং প্রদেশে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার পেছনে আছে ইটিআইএম। তালেবানদের ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর। আর শর্তের বিষয়টি তালেবানদের পক্ষের মধ্যস্থতাকারী মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদারও নিশ্চিত করেছেন।

তালেবান মুখপাত্র মোহাম্মদ নায়িম এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘রাজনীতি, অর্থনীতি ও উভয় দেশের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ইস্যু এবং আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’ তালেবান আলোচক এবং ডেপুটি নেতা বারাদার আখুন্দের নেতৃত্বাধীন দলটি চীনের আফগানবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গেও বৈঠক করে। এছাড়া চীনা কর্র্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে একটি ভ্রমণেও অংশ নিয়েছে তারা। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিয়ানজিনে তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

তবে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আর কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা কোনোপক্ষই প্রকাশ করেনি। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে তালেবানদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছে চীন। এ ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কে মডেল হতে পারে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংকে যেভাবে চীন বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে, তালেবানদেরও হয়তো একই কায়দায় ব্যবহার করতে পারে পেইচিং। আর এমনটা হলে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, আফগানিস্তানে যখন সহিংসতা বাড়ছে সেই মুহূর্তে চীন সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি নিশ্চিতের চেষ্টা করছে তালেবান। গোষ্ঠীটির কাতারে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে, সেখানেই শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ মাসে তালেবান প্রতিনিধিরা ইরানও সফর করেছেন। সেখানে আফগান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তালেবান প্রতিনিধিরা।

যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। চীন সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের বিস্তৃত এলাকা নতুন করে দখল করে নিতে শুরু করেছে তালেবান। কাতারের শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও আফগানিস্তানের নতুন নতুন জেলা আর সীমান্ত ক্রসিং দখলে নিচ্ছে তালেবান। তালেবান মুখপাত্র মোহাম্মদ নায়িম এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘প্রতিনিধিরা চীনকে আশ্বস্ত করেছে যে, আফগানিস্তানের ভূমি পেইচিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।’ এছাড়া চীনও আশ্বস্ত করেছে যে, আফগানদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে পেইচিং। তবে চীন আফগানিস্তানের কোনো ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করবে না কিন্তু সমস্যা সমাধান এবং দেশটিতে শান্তি স্থাপনে সহায়তা দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত