করোনার পরীক্ষার ফল পেতে লাগছে ৩ দিন

রূপগঞ্জে ১০ দিন ধরে পিসিআর মেশিন নষ্ট

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১২:২৯ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। এরইমধ্যে গত ১০ দিন ধরে গাজী পিসিআর ল্যাবের মেশিন নষ্ট থাকায় করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ফলে নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গতকাল বুধবার গাজী পিসিআর ল্যাব প্রধান ডাক্তার রোকসানা রায়হানের সঙ্গে কথা হলে তিনি যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য ১০ দিন ধরে ল্যাবটি বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

গত ১৮ জুলাই থেকে ল্যাবটির বায়োটেস্ট কেবিনেট বিকল হয়ে পড়ায় উপজেলায় বন্ধ রয়েছে করোনার নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম। আগে উপজেলায় গাজী পিসিআর ল্যাব, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ তিনটি স্থানে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হতো। এসব নমুনা গাজী পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হতো। বর্তমানে শুধুমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও গাজী পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকায় উপজেলায় এসব নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে এসব নমুনা পাঠাতে হচ্ছে। এতে নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৪ দিন। সময় বেশি লাগায় করোনা সংক্রমণ এখানে আরও দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার অনেক রোগী নমুনা পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেও ভিড় করছেন।

গতকাল গাজী পিসিআর ল্যাব প্রধান ডাক্তার রোকসানা রায়হান জানান, প্রতিদিন এ ল্যাব থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য উপজেলা ও আশপাশের জেলার ৫০০ থেকে ৬০০ নমুনা পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু গত ১৮ জুলাই বায়োটেক টেস্ট ক্যাবিনেট যন্ত্রটি বিকল হয়ে গেলে এ ল্যাব বন্ধ করতে বাধ্য হই। তবে এ সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা মেশিন দ্রুত মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে এ সমস্যা খুব শিগগিরই কেটে যাবে বলে আশা করছি। 

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর জাহান আরা খাতুন বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাজী পিসিআর ল্যাব বন্ধ রয়েছে। ফলে জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় জেলার সদর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ল্যাবে নমুনা পাঠাচ্ছি। ওখানে টেস্ট কীট ও লোক স্বল্পতার কারণে টেস্ট রেজাল্ট পেতে ৩ দিন লেগে যায়। এতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। 

এসব  বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাসার বলেন, ‘এত চাপ যে আমাদের জনবল ও মেশিনারিজ কুলাচ্ছে না। তার ওপর গাজী পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে এখানে। ফলে  একদিনে ৯০০ নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ টেস্ট করতে পারি মাত্র ৪০০ জনের। বাকি আরও ৫০০ নমুনা পড়ে থাকে। এখানে আবার বিদেশযাত্রীদেরও রিপোর্ট দিতে হয়। ফলে রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত