অনিশ্চয়তায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন

কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের খবর রাখেনি কেউ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১১:৪৪ পিএম

করোনাকালীন সংকটে পড়া বিভিন্ন পেশার মানুষ সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে আর্থিক প্রণোদনা পেলেও কিন্ডারগার্টেন-নার্সারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের খবর কেউ রাখেনি। এ দুর্যোগের সময়ে আর্থিক কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এমন দুর্দশায় পড়েছেন ময়মনসিংহের কিন্ডারগার্টেনের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

করোনা প্রতিরোধে সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো ময়মনসিংহেও বন্ধ রয়েছে কিন্ডারগার্টেন ও নার্সারি স্কুল। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন জেলার ১ হাজার ৩৩৩টি কিন্ডারগার্টেনের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী। প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন-বোনাস পাচ্ছেন না তারা। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চিত জীবন পার করছেন। অন্যদিকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মূলত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির টাকায় এসব স্কুলের ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য খরচ মেটানো হয়। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে স্কুল বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা টিউশন ফি দিচ্ছেন না। ফলে অধিকাংশ স্কুলে গত বছর মার্চ থেকে শিক্ষকদের বেতন-বোনাস বন্ধ হয়ে গেছে।

কিন্ডারগার্টেনের এসব শিক্ষক খুবই সামান্য বেতন পেলেও প্রাইভেট-টিউশনি করে সংসার চালাতেন। করোনার কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ধারদেনা করে কিছুদিন চললেও এখন অনেকের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী পেশা বদল করেছেন।

ময়মনসিংহ চরকালীবাড়ি এলাকার ‘সূর্যসেনা’ স্কুলের পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘২০০৯ সালে ভাড়া জমিতে টিনের স্থাপনা তৈরি করে স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু করোনার থাবায় সব শেষ হয়ে গেছে। করোনায় স্কুল বন্ধের আগে ২৪ শিক্ষক, ২ জন কর্মচারী ও ৬১৩ শিক্ষার্থী ছিল। নিজের টাকায় গত বছর পর্যন্ত জমির ভাড়া ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিয়েছি। চলতি বছরে কাউকে আর বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। জমির ভাড়া বকেয়া পড়েছে কয়েক মাসের।’

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কেউ চা, কেউ সবজি বিক্রি করছেন, কেউ দোকান কর্মচারীর কাজ করছেন, কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তা কামনা করছি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল হক জানান, ‘জেলায় ১ হাজার ৩৩৩টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এগুলো তাদের নিজেদের নিয়মে চলে। শুধু বছরের প্রথমে বিনামূল্যে নতুন বই দেওয়া হয়। তাদের জন্য করোনাকালীন কোনো প্রণোদনা আসেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত