আওয়ামী লীগের পদ হারানো হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে তিন দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ; রাতে দায়ের করা অপর দুই মামলাতেও রিমান্ড চাইবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। শুক্রবার রাত ১২টার কিছু আগে রাজধানীর পল্লবী থানায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলা দায়ের করা হয়। পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে র্যাবের করা এই মামলায় শনিবার তাকে 'শোন অ্যারেস্ট' দেখিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’
শুক্রবার রাত ১০টার কিছু আগে গুলশান থানায় দ্বিতীয় মামলা দায়েরের আগে রাতে এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী এই আদেশ দেন । ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই মামলাও হয় গুলশান থানায়। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে থানা-পুলিশ।
শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে দেয়। এরপর হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশানে দ্বিতীয় মামলাটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো একত্রিত করে দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম।
জানা যায়, রাতেই দ্বিতীয় মামলায় 'শোন অ্যারেস্ট' দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে। তবে আদালত এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরে শুনানির কথা বলেছেন।
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার। জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারপারসন হেলেনা নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন। হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটিতে সদস্য ছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তিনি। হেলেনা এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কুমিল্লায় আব্দুল মতিন খসরুর আসনে উপনির্বাচনেও প্রার্থী হতেও চেয়েছিলেন তিনি। তবে কোনোবারই তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।
‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠনে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সভাপতি হওয়ার খবর চাউর হলে সম্প্রতি তাকে দুই কমিটি থেকেই বাদ দেয় আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার গুলশানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে র্যাব আটক করে। পরে মিরপুরে হেলেনার মালিকানাধীন জয়যাত্রা আইপিটিভির কার্যালয় এবং জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ভবনেও অভিযান চলে। রাতের অভিযান শেষে হেলেনাকে আটকের কারণ জানতে চাইলে তার বাসায় ‘মদ, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো বোর্ড, ওয়াকিটকিসহ বেশ কিছু অবৈধ সরঞ্জাম’ পাওয়ার কথা বলেছিলেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ। পরে রাতেই মিরপুরে জয়যাত্রা আইপি টিভি ও জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ভবনেও অভিযানের পর র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ বলেছিলেন, জয়যাত্রা টিভির ‘কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না’।
