লালমনিরহাটে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি জলিলের মরদেহ মৃত্যুর ১১ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রবিবার সকালে লালমনিরহাটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহানের উপস্থিতিতে লালমনিরহাট পৌরসভার সাপটানা কবরস্থান থেকে জলিলের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরকীয়ার জের ধরে প্রেমিকসহ স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্ত্রী মমিনা (২৬)।
নিহত আব্দুল জলিল (৩২) লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ গ্রামের সাহার আলীর ছেলে। তিনি শহরের মাঝাপাড়া এলাকায় জমি কিনে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল, সদর থানার ওসি শাহা আলম, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ) মাহমুদুন্নবীসহ বাদীর পরিবারের লোকজন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোরবানীর ঈদের দ্বিতীয় দিনে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী (৩৩) ও মৃত আব্দুল জলিল। ওইদিন গভীর রাতে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী কৌশলে জলিলকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে এসে আব্দুল জলিল গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে পড়লে স্ত্রী মমিনা ও তার প্রেমিক রব্বানী তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামীর মুত্যু নিশ্চিত হলে ভোরের দিকে মমিনা বেগম চিৎকার শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে জলিলের নাকে ও মুখে রক্ত বের হতে দেখতে পান। পরে পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী তড়িঘড়ি করে শহরের সাপটানা কবরস্থানে জলিলের লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন।
তিন দিন পর মৃতের কুলখানি শেষে জলিলের বড়ভাই আব্দুর রশিদ ছোটভাইয়ের স্ত্রী মমিনা বেগমকে তাদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যেতে বলেন। কিন্তু মমিনা বেগম তাদের সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি যেতে অস্বীকার করেন। এতে পরিবারের অন্যদের সন্দেহ হয়।
এরপর ২৫ জুলাই ছোটভাই জলিলকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করে তার পরিবার।
পুলিশ জানায়, ওই দিনই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামালের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে দীর্ঘক্ষণ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কোনো ক্লু পাচ্ছিলো না পুলিশ। পরে তাদের ফোন কল যাচাই করে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে মমিনাসহ তার প্রেমিককে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে পরকীয়ার কারণে জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী। পরে তারা দু’জনেই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তা রেকর্ডের জন্য তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এরপর শনিবার জবানবন্দী রেকর্ড করার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
নিনর্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরিদ আল সোহান জানান, আদালতের নির্দেশে ১১ দিন পর জলিলের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লালমনিরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর মাধ্যমে উঠে এসেছে তারা দু’জনেই চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর বালিশ চাপা দিয়ে জলিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
