রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ হেফাজতে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। মো. লিটন (৪৫) নামের ওই আসামী সোমবার গভীর রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি পুলিশের।
সোমবার রাতেই তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
এ মৃত্যুর পেছনে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশের ঊর্ধবতন কর্মকর্তারা।
নিহত লিটনের বাড়ি বগুড়ার কাহালু থানা এলাকায়। তার মরদেহ প্রথমে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে শহীদ তাজ উদ্দিন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো স্বজন লাশ নিতে আসেনি বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, র্যাব লিটনকে মাদকসহ আটক করে গত ৩১ জুলাই উত্তরা পূর্ব থানায় হস্তান্তর করে। এ মামলার দুদিনের রিমান্ডে ছিল সে। মঙ্গলবার ছিল রিমোন্ডের প্রথম দিন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে লিটন গায়ে দেওয়ার কোম্বল কেটে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে মোট চারটি মাদকের মামলা রয়েছে।
থানা সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই আমিনুল। এর আগেও লিটনের বিরুদ্ধে তিনটি মাদকের মামলা ছিল। সোমবার রাত ২টা থেকে সাড়ে ৩ টার মধ্যে যেকোনো সময় গায়ে দেওয়ার কোম্বল ছিঁড়ে ভেন্টিলেটরের গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এ সময় ডিউটি অফিসার থাকলেও তাৎক্ষণিক বুঝতে পারেনি। পরে যখন বুঝতে পারে তখন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিসিটিভি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। পরে ডিউটি অফিসার বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে এডিসি তাপস কুমার দাসকে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
