নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক চুনা কারখানা। এসব কারখানার ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কারখানা সরিয়ে নিতে মালিকদের চিঠিও দেয় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু দেড় বছর গত হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিটি কারখানাই রয়েছে বহাল তবিয়তে।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল, মিজমিজি, আটি, সিআইখোলা ও মক্কীনগর এলাকায় প্রায় দুই যুগ আগে গড়ে ওঠে চুনা শিল্প কারখানা। বর্তমানে চলছে ১৪টি কারখানা। পরিবেশ দূষণরোধে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর আবাসিক এলাকা থেকে কারখানা সরিয়ে নিতে লিখিত নির্দেশ দিলেও এখনো চালু আছে মেসার্স মদিনা লাইমস, ফয়সাল লাইমস, সুরমা লাইমস, আরাফাত লাইমস, মেঘনা লাইমস, বাদশা লাইমস, খাজা লাইমস, আশরাফ আলী লাইমস, রহমান লাইমস, জাজিরা লাইমস, ঢাকা লাইমস, শরীফ লাইমস ও ভাই ভাই লাইমস কারখানা।
অধিকাংশ চুনা কারখানার ভাটির ওপর ছাদ নেই। খোলা আকাশের নিচেই পোড়ানো হচ্ছে চুনাপাথর। দিনরাত অবিরাম চুনা ভাটিতে জ¦লছে আগুন। ছাদ না থাকায় ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব জানান, চুনার ডাস্ট (পাউডার) বাতাসে উড়ে এলাকায় ছড়াচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলকে ম্যানেজ করতে চুনা প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির নামে প্রতি কারখানা থেকে মাসে অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে সুন্দর আলী ও আবু তালেব নামে দুজন কারখানামালিক খুন হন। এসব কারণে সমিতি ভেঙে দিলেও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, কারখানার ভাটিগুলোতে নিয়মের চেয়ে অন্তত পাঁচগুণ বেশি চুনাপাথর পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার্থে চুনার ভাটির ওপরে ছাদ নির্মাণ করার সার্কুলার থাকলেও অনেক কারখানায় তা নেই।
এ বিষয়ে মেসার্স ঢাকা লাইমসের মালিক খোরশেদ আলম জানান, কারখানা করার সময় এলাকায় বসতি ছিল না। এখন গড়ে উঠেছে। কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অন্যত্র জমি পেলেই কারখানা সরিয়ে নেওয়া হবে। জাজিরা লাইমসের মালিক আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘সরকার চাইলে কারখানা সরিয়ে নেব। কিন্তু কোথায় নেব সেই দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।’
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘একেক কারখানাকে একেক মেয়াদে সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।’
