সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিল দাবি বিএনপির

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২১, ০৮:৩১ পিএম

চট্টগ্রামের সিআরবিতে বহুল আলোচিত বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সিআরবি চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্থান। এখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ আবদুর রবের সমাধি। সমাধি ভেঙে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মাণের অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট করেনি। তারা কী হাসপাতালের পক্ষে না বিপক্ষে? তাদের এ অস্পষ্টতা থেকে অনুমান করা যায় ভেতরে-ভেতরে তারা হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু বীর চট্টলার জনগণ সিআরবি ধ্বংস করে কোনো হাসপাতাল মেনে নেবে না।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চট্টগ্রামবাসীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে হাসপাতাল-মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রকল্প বাতিল করে সিআরবি রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিআরবি সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যানের আওতাভুক্ত একটি সংরক্ষিত এলাকা। এটি হেরিটেজের অংশ। বাংলাদেশের সংবিধানে হেরিটেজ রক্ষার বাধ্যবাধকতা আছে। কোনো সংরক্ষিত এলাকায়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে এমন এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। এটি ইতিহাস-ঐতিহ্য ধ্বংসের শামিল।

এতে বলা হয়, সিআরবিতে রেলওয়ের একটি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল বিদ্যমান আছে। দীর্ঘসময় ধরে অবহেলার কারণে সেটি এখন জরাজীর্ণ। অথচ মাত্র ৫০ কোটি টাকা খরচ করলে সেই হাসপাতাল আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় পূর্ণাঙ্গ করা যায়। চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে সেটিকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেখানে নতুন করে আরেকটি হাসপাতালের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

বিএনপির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরেই রেলওয়ের জায়গায় ইউএসটিসি, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালসহ আরো বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। সিআরবি ছাড়া শহরে রেলওয়ের আরো খালি জায়গা আছে। জনগুরুত্বসম্পন্ন কোনো হাসপাতাল প্রকল্প নিতে হলে সেসব জায়গায় করা যায়, কিন্তু সিআরবিকে ধ্বংস করে নয়। চট্টগ্রাম শহরের বাইরে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বড় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। শহরের বাইরে হাসপাতাল করা বেশি জরুরি। সিআরবির প্রকল্পটি শহরের বাইরে কোথাও স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। পিপিপি’র আওতায় এই প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষ অনেক তথ্য গোপন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারা, কী উদ্দেশে চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি ধ্বংস করার পাঁয়তারায় মেতেছে, বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম.এ আজিজ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজ্বী নুরুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ, মহানগর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত