এক ইউপি সদস্যের পরিবারে সরকারি সহায়তার ৭ কার্ড!

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ১২:৩৫ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (সংরক্ষিত) মিনু রানী দত্তের পরিবারে সরকারি সহায়তার তালিকায় সাত সদস্যের নাম পাওয়া গেছে।

তালিকা অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই ইউপি সদস্যের স্বামী, ভাই ও চাচি পান বয়স্ক ভাতা। আর মেয়ের জামাই ও নাতনি পান প্রতিবন্ধী ভাতা। এখানেই শেষ নয়, মেয়ে পান ভিজিএফ কার্ডে ১০ টাকায় চাল আর ছেলের বউ পান মাতৃত্বকালীন ভাতা। এভাবে সাতটি কার্ডে সরকারি সহায়তার ভাতা তুলছেন আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিনু রানী দত্ত।

উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারের বয়স্ক ভাতা প্রদানের বিধিমালা অনুযায়ী, পুরুষের ৬৫ ও নারীর ৬২ বছর বয়স হলেই বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। সমাজসেবা কার্যালয়ে বয়স্ক ভাতার তালিকায় রয়েছে ইউপি সদস্য মিনু রানী দত্তের স্বামী দীপক দত্ত ও চাচি নিনা প্রভা দাশ। প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় মেয়ের জামাই সমর দাশ ও নাতনি প্রাপ্তি দত্তের নাম। খাদ্য অধিদপ্তরের ভিজিএফ কার্ডের তালিকায় মেয়ে কৃষ্ণ দত্ত ও মহিলাবিষয়ক অফিসের মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকায় ছেলের বউ টুম্পা দত্তের নাম রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে ৭ হাজার ১০০ টাকার সরকারি সহায়তা তুলে নিচ্ছে মিনু রানীর পরিবার।

জানা যায়, ইউপি সদস্য মিনু রানী দত্তের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়, থাকেন চট্টগ্রাম নগরে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা আনোয়ারা উপজেলায় করার সুবাদে মেয়ের জামাই সমর দাশের নামেও তুলছেন প্রতিবন্ধী ভাতা। মিনু রানী দত্তের ভাই পীষূষ দত্তের এনআইডি কার্ডমতে, তার জন্ম ১০ জুন ১৯৬৫ সাল হলেও কয়েক বছর ধরে তার নামে বয়স্ক ভাতা এসেছিল। সম্প্রতি সরকার অনলাইনে বয়স্ক ভাতা চালু করলে বয়সের কারণে তার নাম বাদ পড়ে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মিনু রানী দত্ত বলেন, তার ভাই পীষূষ দত্ত আগে ভাতা পেলেও এখন অনলাইন হওয়ায় ভাতা পাচ্ছেন না। তবে তার পরিবারে শুধু দুজনই ভাতা পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, কিছুদিন আগেও ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ পেলে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এক পরিবারে সাতজন সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত