বিভিন্ন জটিলতার কারণে দুই বছরেও হবিগঞ্জে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হয়নি। এদিকে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোগ নির্ণয়ে এখনো সিলেট থেকে নমুনা পরীক্ষা করে আনার জন্য চার-পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক সভায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২০ শয্যার আইসোলেশন, ১০ শয্যার সিসিইউ, আইসিইউ বর্জ্য প্ল্যান্ট ও পিসিআর ল্যাবসহ মডার্ন মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা বেশিদূর এগোয়নি।
এদিকে মহামারী করোনা প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট থেকে নমুনা পরীক্ষা করে আনতে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যায়। জেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেনডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্পের আওতায় পিসিআর ল্যাব জরুরি ভিত্তিতে স্থাপন করার পদক্ষেপ নেয়। চলতি বছর এপ্রিল মাসে ওই ল্যাব স্থাপনের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। গত ১১ মে দরপত্র খোলা হলেও সিলেটের মেসার্স জালাল এন্টারপ্রাইজ কার্যাদেশ পায় গত ৩০ জুলাই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ল্যাবটি হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের আওতাধীন হওয়ায় সদর হাসপাতালে এটি স্থাপন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ১৫ আগস্টের মধ্যে কাজ সম্পাদনের জন্য ঠিকাদারকে সময় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জালাল এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় প্রতিনিধি আজিজুর রহমান আজিজ জানান, প্রথম দিকে পিসিআর ল্যাবের স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা ও অন্যান্য কারণে দেরিতে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লকডাউনের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ও জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। শ্রমিকরা রাতদিন কাজ করেও সামাল দিতে পারছেন না।
সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কক্ষটি নির্মাণের পর কবে নাগাদ মেশিন আসবে, জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাই কখন ল্যাব চালু হবে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।
