নিজ এলাকায় বেড়েছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। করোনার উপসর্গে ভুগছেন অনেক পাড়া-প্রতিবেশী। প্রতিনিয়তই প্রয়োজন হচ্ছে অক্সিজেন সেবার। অক্সিজেন সংকটের কারণে শ্বাসকষ্টে রোগীর মারা যাওয়ার খবর পাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে ভোগা এসব মানুষের জন্য কিছু করতে এগিয়ে এলেন। কিন্তু হাতে নেই তেমন টাকাপয়সা। উপায় না পেয়ে নিজের স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে কিনে আনলেন অক্সিজেন সিলিন্ডার।
এমন কাজ করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইদ্রিস দেওয়ানের ছেলে রুবেল দেওয়ান। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফিল্ড সুপারভাইজারের দায়িত্বে আছেন।
তার এ ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাধুবাদ জানান।
রুবেল বলেন, করোনায় চাঁদপুুর জেলার পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়েছে। আমার এলাকার অনেক পাড়া-প্রতিবেশীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেরই অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে। কিছু দিন আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে শ্বাসকষ্টে আমার জেঠি মৃত্যুবরণ করেন। তা ছাড়া এলাকারই মুরব্বি মুখলেস মজুমদার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কিন্তু অক্সিজেন না থাকায় তাদের সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনাগুলো আমার মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। আমার গ্রামে যেন আর কেউ অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে মারা না যায় সে জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার চিন্তা মাথায় আসে।
তিনি বলেন, করোনাকালে নিজের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো কাটছে না। পরিচিতদের সঙ্গে আলাপ করেও ভালো সাড়া পাইনি। তাই তিন দিন আগে আমার স্ত্রীর গয়নাগুলো স্থানীয় একটি স্বর্ণের দোকানে বন্ধক রেখে অনলাইনে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয়ের জন্য অর্ডার দিই। বৃহস্পতিবার রাতে তা আমার হাতে এসে পৌঁছে।
রুবেলের স্ত্রী নাছরিন বেগম বলেন, বাসা ভাড়া ও খাবার কেনার কথা বলে গয়নাগুলো নিয়ে যায়। কিন্তু পরে জানতে পানি সে তার এলাকাবাসীর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে গয়না বন্ধক দিয়েছে। এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি। স্বামী এই সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় গর্ববোধ করছি।
রুবেল আরও বলেন, চিকিৎসক এবং এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার নিয়মকানুন জেনে এ কাজটি করতে চাই।
