ভরা মৌসুমেও লোকসানের মুখে পেয়ারা চাষিরা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ০২:০৭ পিএম

পেয়ারার ভরা মৌসুম শুরু হলেও পর পর লকডাউনে লোকসানের মুখে পড়েছেন ঝালকাঠির পেয়ারা চাষিরা।

জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পেয়ারার মৌসুম শুরু হলেও দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে পরপর লকডাউনে আগস্টেও ক্রেতা না পা্ওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে পেয়ারা চাষিদের। ফলে চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার ভীমরুলিসহ পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার ৩৬টি গ্রামজুড়ে প্রায় ৩১ হাজার একর জমিতে রয়েছে এ পেয়ারা বাগান। তাই দক্ষিণাঞ্চলের হাট বাজারসহ বাগান এলাকা জুড়ে পাকা পেয়ারার মৌ-মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।

মৌসুমের শুরুতে যে পেয়ারা প্রতি মণ ৮শ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন ৪শ টাকা টাকা দরেও বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা।

পচনশীল এই পণ্য রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলার আপেল খ্যাত ঝালকাঠিতে পেয়ারার ভরা মৌসুমে মোকামগুলোতে এতদিনে বেচাকেনার ধুম লেগে যাওয়ার কথা। কিন্তু কঠোর লকডাইনের কারণে ক্রেতা না থাকায় অনেক কম দামে পেয়ারা বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের।

দেশের একমাত্র ভাসমান ঝালকাঠির ভীমরুলির এ পেয়ারা হাটে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার মণ পেয়ারা কেনা-বেচা হয়।

আষাঢ় মাসের অর্ধেক, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসজুড়ে এই আড়াই মাস পেয়ারার ভরা মৌসুম থাকে।

সদর উপজেলার ভিমরুলী, ডুমুরিয়া, শতদশকাঠি, বাউকাঠি, ও সীমান্তবর্তী আটঘর ও কুড়িয়ানাসহ বিশটি গ্রামে পেয়ারার চাষ বেশি হয়।

পেয়ারা চাষ ও এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে ৫০টিরও বেশি ছোট-বড় ব্যবসা কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত এসব মোকামে চাষিরা ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় সরাসরি বাগান থেকে পেয়ারা নিয়ে আসে পাইকারদের কাছে। পাইকাররা তা কিনে ট্রাক ও ট্রলারযোগে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছায়।

ভীমরুলির স্থানীয় পেয়ারা চাষি সবুজ হালদার বলেন, মৌসুমের শুরুতে ২০ টাকা কেজি দরে প্রতি মণ পেয়ারা কম হলেও ৮শ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও ক্রেতা কম থাকায় বর্তমানে প্রতি মণ পেয়ারা সর্বোচ্চ ৪শ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

চাষি মিলন কান্তি মন্ডল বলেন, এখানে একটি পেয়রা প্রক্রিয়াজাতকরণের হিমাগার থাকলে অমাদের লোকসানের মুখে পড়তে হতো না। সঠিক দামে পেয়ারা বিক্রয় করতে না পেরে আমরা বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এভাবে লকডাউন চলতে থাকলে পেয়ারার দাম অরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, লকডাউনের কারণে চাহিদা কম থাকায় পেয়ারার দামও একটু কম পাচ্ছে চাষিরা। সংরক্ষণসহ কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতো।

লকডাউন উঠে গেলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। পেয়ারা প্রক্রিয়াজাতকরণে বিশেষ হিমাগারের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি, শিগগিরই এটি অনুমোদন হয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত