দুই দশকের লড়াই শেষে আফগানিস্তানে কে বেশি শক্তিশালী, এমন প্রেক্ষাপট আবার তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাচ্ছে, এমন ঘোষণার পর থেকেই তালেবানরা দেশটির ক্ষমতা দখলের রাস্তায় হাঁটছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা দখল করছে সশস্ত্র দলটি। যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীহীন আফগানিস্তানে তালেবানদের মুখোমুখি এখন শুধুই আফগান বাহিনী। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপি তালেবান ও আফগান বাহিনীর মধ্যে কে বেশি শক্তিশালী এমন একটি প্রতিবেদন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক জেলাই এখন তালেবানদের দখলে। যদিও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা মনে করেন, তালেবানের সামরিক বিজয় এখনো বহু দূর। এর কারণ হিসেবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতার দিককে ইঙ্গিত করছেন তারা।
আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ লাখ ৭ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী, বিশেষ বাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। সামরিক থিঙ্কট্যাংক ‘সিএনএ’র গবেষক জনাথন স্ক্রডেনের মতে, আফগানিস্তানে যেকোনো দিন সরকারি বাহিনীর ১ লাখ ৮০ হাজার সদস্য যুদ্ধ করতে পারবেন।
অপরদিকে তালেবানের শক্তিমত্তা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে গত বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পর্যবেক্ষকরা বলেন, সশস্ত্র সংগঠনটির ৫৫ থেকে ৮৫ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর বছরে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার দরকার হয়। বিপুল অঙ্কের এই সামরিক বাজেটের ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র বহন করে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
অপরদিকে তালেবানের অর্থের উৎস অস্পষ্ট। জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তালেবানের বার্ষিক আয় ৩০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার হতে পারে। তাদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে মাদক ব্যবসা থেকে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দখল করা এলাকা থেকে কর আদায়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তারা। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্ট জনবল নিয়োগ, অর্থায়ন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের জন্য তালেবানকে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। পাকিস্তান, ইরান ও রাশিয়া তালেবানকে রসদ ও পরামর্শ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকার।
তালেবানের তুলনায় আফগান বাহিনী অনেক বেশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে আফগান বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসল্ট রাইফেল, রাতে দেখার চশমা, সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি এবং নজরদারির জন্য ছোট ছোট ড্রোন। আফগান সামরিক বাহিনীর বিমানবহরে ১৬৭টি বিমান রয়েছে, এর মধ্যে আক্রমণে সক্ষম হেলিকপ্টারও রয়েছে। অপরদিকে তালেবান কয়েক দশক ধরেই ছোট ও হালকা অস্ত্র ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে সোভিয়েত আমলের একে-৪৭ রাইফেল, যেগুলো ওই অঞ্চলের কালোবাজারিদের কাছ থেকে তারা সংগ্রহ করে। ২০১৯ সালে অ্যান্তোনিও গিউৎজ্জি তালেবানের ওপর লেখা একটি বইয়ে উল্লেখ করেন, তালেবান যোদ্ধারা স্নাইপার রাইফেল, মেশিনগান, রকেটচালিত গ্রেনেড, মর্টার ও অন্যান্য ছোট রকেট ব্যবহার করে। বিমান ও ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্রও ব্যবহারের চেষ্টা করছে তারা।
