আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যাওয়ার পরই দেশটির বিভিন্ন জায়গায় সর্বত্র বিচরণ করেছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে বিনোদন কেন্দ্রের পার্কে আনন্দে মত্ত তালেবান যোদ্ধারা। কারও কাঁধে কামান, কেউ আবার একে-৪৭ অস্ত্র নিয়েই উদযাপনে মেতেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
কাবুলের বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন তালেবানের দখলে। এ সুযোগে তারা নানা ধরনের রাইডে চড়ে বেড়াচ্ছে। বাচ্চাদের গাড়ি নিয়েই কেউ কেউ খেলায় মেতেছে। গত ১৬ আগস্টের ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিনোদন পার্কে বাচ্চাদের ‘স্ট্রাইকিং কার’ চালাচ্ছে তারা। অন্য আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন তালেবান যোদ্ধাকে শিশুদের খেলনা ঘোড়ার ওপর চড়ে হাস্যরত করতেও দেখা যায়।
রয়টার্সের সাংবাদিক হামিদ শালিজি জানান, ছোট ছোট বৈদ্যুতিক গাড়িতে অস্ত্র নিয়েই চড়ে তালেবান সদস্যরা। প্রতিবেদকের অন্য একটি শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি পার্কে ঘোড়া নিয়ে ছুটছে তালেবান। শুধু তাই নয়, জিমে নানা ধরনের সরঞ্জামাদি নিয়ে কসরত করতে দেখা গেছে তাদের। কেউ কেউ তখন অস্ত্র বহন করেই শরীরচর্চা করে। মাজার-ই-শরিফের জেনারেল দস্তুমের ফাঁকা বাড়িতে তালেবান যোদ্ধারা নৃত্য করছে এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে। ভিডিওতে যোদ্ধাদের নাচের সঙ্গে সঙ্গে খাবার খেতে ও পানীয় নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালেবানদের এমন ভিডিও শেয়ার দিয়ে অনেককে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় মন্তব্যই করতে দেখা যাচ্ছে।
গত রবিবার বিনা প্রতিরোধেই রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় তালেবান গোষ্ঠী। ক্ষমতায় বসতে কাজ করে যাচ্ছেন নেতারা। এ অবস্থায় দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। নেতৃত্বশূন্য কাবুলে এখন তালেবান
কর্র্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে নিজেদের ক্ষমতা ফলাতে শুরু করেছে। গতকাল তারা কাবুলে গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে। এই গভর্নরের হাত ধরেই দেশটির সরকারি কর্মকাণ্ড আবার চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি তালেবানরা সরকার গঠনেও জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তানের একাধিক আদিবাসী নেতার সঙ্গে তালেবানরা আলোচনায় বসেছে। এ আলোচনার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে, এমনটাই বলা হচ্ছে। আর তা যদি হয় তাহলে ওই সরকারে আদিবাসী নেতারা ছাড়াও গত ২০ বছরে দেশটির সরকারে থাকা অনেক কর্মকর্তাকেই দেখা যেতে পারে।
