লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে ৬ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ০৫:১১ এএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় এক গৃহবধূকে অপহরণের পর টানা ছয় দিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চর আফজাল গ্রামের ওই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে হাসিবুর রহমান বিপুল (২৩) নামে এক যুবককে আটক করে র‌্যাব। অভিযুক্ত বিপুল রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর বদরপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১১ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক খন্দকার মো. শামীম হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার মান্দারী বাজারে জিনিসপত্র ক্রয় করতে যান ওই নারী। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে বিপুল। পরে ভুক্তভোগীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রামগতি উপজেলার চর আফজাল গ্রামের বারেক মাঝি নামে একজনের বাড়িতে নিয়ে তোলে সে। এরপর সেখানকার একটি ঘরে ওই নারীকে টানা ছয় দিন ধরে আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে বিপুল। একপর্যায়ে ঘটনাটি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর স্বামী র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত বিপুলকে আটক করে র‌্যাব। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় আদালতের মাধ্যমে গতকাল বুধবার বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে নরসিংদীতে এক নারী শ্রমিককে (২০) মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে নরসিংদী শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসসহ ওই তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী সদর থানার চিনিশপুর পশ্চিম পাড়া বেলতলা এলাকায় ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া গাজীপুরে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও ফের ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে গতকাল দুপুরে গাজীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী। তার দাবি, এ ঘটনায় থানায় মামলা করলেও তা প্রত্যাহারের জন্য তাকে নানা ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে।

নরসিংদীর ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলো নরসিংদী শহরের বাসাইলের মিজান মিয়া আরিয়ান (২০), একই এলাকার সাইফুল ইসলাম (২৪) ও পলাশ থানার ধানইর চর এলাকার সোহেল মিয়া (২৪)। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর সঙ্গে মিজানের মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই নারী চিনিশপুর পশ্চিম পাড়া বেলতলা এলাকায় মিজানের সঙ্গে দেখা করতে আসে। এ সময় মিজান ওই নারীকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসে ওঠায়। কিন্তু মাইক্রোবাসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা মিজানের সহযোগীরা ওই নারীকে বেঁধে ফেলে। এরপর মাইক্রোবাসের ভেতরই মিজান ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইনামুল হক সাগর জানান, গতকাল বিকেলে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে গাজীপুরে সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী জানান, জমি কেনার জন্য গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকার কামাল হোসেনকে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয় জমির মালিককে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কামাল ওই টাকা জমির মালিক মুজিবুর মোল্যাকে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। পরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে ওই নারীকে কামাল ও তার বন্ধু তরিকুল ইসলাম সবুজ মিলে দল বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন এবং মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন। এরপর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে শারীরিক নির্যাতন ও ফের ধর্ষণ করেন তারা। সবশেষ গত ৪ মার্চ কালিয়াকৈরের আনন্দ পার্কে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ফের ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় গত ১২ জুন কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন ওই নারী। মামলায় সবুজ বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার সহযোগীরা সেই মামলা তুলে নিতে ওই নারীকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত