ফের বেড়েছে তিস্তার পানি, নীলফামারীর ১৫ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ০৮:২৮ পিএম

একদিনের বিরতির পর ফের উজানে ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীতে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তা নদীর পানি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নদীর পানি কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচে নামে।

এদিকে তিস্তায় পানি ফের বিপদসীমা অতিক্রম করায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১৫টি চর গ্রাম নদীর পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ওই সব গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন বলেন, ‘টানা কয়েক দিনে বন্যা পরিস্থিতির পর বুধবার উন্নতি হয়। একদিন বিরতি পর ফের তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পুনরায় পানি প্রবেশ করে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারে সরকারি কোনো ত্রাণ এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ইউনিয়নের টাপুর চরে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। বাঁধটি রক্ষায় সেখানে বালুর বস্তা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ পরিবারের বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করায় এসব পরিবারের মানুষজন পানিবন্দী হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।’

এদিকে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, ‘ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে আমরা গত সপ্তাহে ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। আগামীকাল শুক্রবার সেখানে চাল দেওয়া হবে। অন্যান্য ইউনিয়নেও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে এসব ইউনিয়নে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বুধবার সারাদিন নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে বিকেলের পর থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়তে থাকে নদীর পানি।

বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। বর্তমানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।

এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের ওয়েব সাইডে দেখা যায়, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং পাহাড়ি ঢলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দোমোহানি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। দোমোহানি পয়েন্টে নদীর পানির বিপদসীমা ৮৫ দশমিক ৯৫ মিটার। সেখানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে দোমোহানি পয়েন্টে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৯৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে দোমোহানি কর্তৃপক্ষ। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর কয়েক দফায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর উজান ভারতের দোমোহানি পয়েন্টে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি রয়েছে। দোমোহানি পয়েন্ট  থেকে পানির ওই ঢল তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে আসতে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। ওই ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।   

পানি নিয়ন্ত্রণসহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের সব কটি (৪৪) জলকপাট খুলে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত  কোথাও কোনো বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছি।’

উল্লেখ্য, উজানে টানা ভারি বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে গত ১২ আগস্ট রাত থেকে বাড়তে থাকে তিস্তা নদীর পানি। যা পরের দিনে ১৩ আগস্ট সকালে বিপদসীমা অতিক্রম করে সারাদিন ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাতে পানি কমে ১৪ আগস্ট শনিবার থেকে সোমবার সারাদিন ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি কমে বুধবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।  রাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত