শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় দণ্ডিতদের স্মরণ অনুষ্ঠান

বিএনপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আ.লীগ নেতার!

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ০৫:২৮ এএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত কারাবন্দিদের স্মরণে বিএনপি নেতার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। তিনি ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবারের ওই অনুষ্ঠানের ছবি ও এ সংক্রান্ত তথ্য ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর তীব্র সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একাংশ।

জানা গেছে, ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে গত বৃহস্পতিবার পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন করেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। পরদিন শুক্রবার সকালে বিএনপি নেতা সরোয়ারুজামান মনা বিশ্বাসের ফেইসবুক পেইজে ওই অনুষ্ঠানের ছবি ও তথ্য প্রকাশ হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু এবং বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন ছাড়াও বিএনপি নেতা সরোয়ারুজামান মনা বিশ্বাস, পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি জমসেদ আলীসহ বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকাকালীন দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার পথে তাকে বহন করা ট্রেনে হামলা হয়। ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছামাত্র তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ট্রেন লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি পাথর ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। সেই মামলায় ঈশ্বরদী বিএনপির ৪৯ নেতাকর্মী দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন। তাদের স্মরণে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করে বিএনপি নেতা মনা বিশ্বাস লিখেছেন, ‘পূর্ব টেংরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং মৃত ও কারাগারে বন্দিদের স্মরণে বিএনপি নেতার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সঙ্গে বৃক্ষরোপণ করা হলো।’ বিএনপি নেতা মনা বিশ্বাসের ওই ফেইসবুক পোস্ট শেয়ার করার পাশাপাশি কমেন্ট অপশনে নেতিবাচক বিভিন্ন কথা লেখেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ দেশ-বিদেশের বহু মানুষ। তারা আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টুর এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তার শাস্তি দাবি করেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল বলেন, ‘দায়িত্বশীল পদে থেকে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু যে অপকর্ম করেছেন তার বিচার হওয়া উচিত।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল হক পুনো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়ে (মিন্টু) বিএনপি-জামায়াত, রাজাকার ও নকশাল পরিবারের ছেলেদের নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং আর্থিকভাবে তাদের পরিচালনাকারী ও প্রতিষ্ঠাকারীকে প্রতিরোধ করার সময় এসেছে। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করতে হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে কাজ করা আজ নতুন কিছু নয়। মিন্টু আওয়ামী লীগে থাকা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট। শোকের মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার কারাবন্দি আসামিদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি খুবই ঘৃণিত।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারব না। এতে আমার ক্ষতি হতে পারে। বৃক্ষরোপণকারী আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকেই জিজ্ঞাসা করেন।’

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল বলেন, ‘কাজটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

এদিকে আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর দাবি তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষের লোকজন অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ওই স্কুলের সভাপতি। মনা বিশ্বাস একই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনিই স্কুলে একটি গাছ লাগানোর ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। সে কারণে তিনি আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন। সেখানে গত পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়নও ছিলেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কয়েকজন শিক্ষক, আমি, মনা বিশ্বাসÑ এই কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই। এই সামান্য বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত