স্থানীয় মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করেছে তালেবান। সোমবার তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইট বার্তায় এই দাবি করা হয়।
গত ১৫-ই আগস্ট তালেবানরা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করার পর উত্তরাঞ্চলীয় বাঘলান প্রদেশের তিন জেলা বানো, দেহ সালেহ এবং পুল ই-হেসার-এ স্থানীয় মিলিশিয়ারা তালেবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের ঘোষণা করে।
আজ ২৩ আগস্ট, সোমবার তালেবানরা ওই তিন জেলায় স্থানীয় মিলিশিয়াদের উৎখাত করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করল। জাবিউল্লাহ মুজাহিদের টুইট বার্তায় আরও দাবি করা হয়, তালেবানরা পাঞ্জশির উপত্যকার কাছাকাছি বাদাকশান, তাখার এবং আন্দারাব এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। পাঞ্জশির প্রদেশ এখনো তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ এখনো আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় মুজাহিদীনদের হাতেই রয়েছে। আহমেদ মাসুদ এর বাবা আহমেদ শাহ মাসুদ ১৯৮০-র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসন প্রতিরোধকারী আফগান মুজাহিদীনদের একজন কমান্ডার ছিলেন। ২০০১ সালের আগেও পাঞ্জশিরের স্থানীয় মুজাহিদীন তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সে সময় তালেবান বিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের একপর্যায়ে আহমেদ শাহ মাসুদ তালেবানের এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও আহমেদ মাসুদের সঙ্গে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে আফগান সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যও যোগ দিয়েছেন।
ওদিকে, পাঞ্জশির প্রদেশ দখলে শত শত যোদ্ধা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। রবিবার তালেবানের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় প্রশাসন শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। তাই ইসলামিক আমিরাতের শত শত মুজাহিদীন পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণ নিতে রওনা হয়েছে।’
অন্যদিকে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তালেবান বিরোধী অনেকে পাঞ্জশিরে জড়ো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এই উপত্যকাটি তালেবান বিরোধীদের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত।
তবে, তালেবানের শত শত যোদ্ধা পাঠানোর ঘোষণায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে আহমেদ মাসুদ। তিনি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে তিনি। তবে তালেবানরা যদি জোর করে পাঞ্জশিরে প্রবেশ করার চেষ্টা চালায় তাহলে তার যোদ্ধারা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
আহমেদ মাসুদ বলেন, ‘আমরা তালেবানকে বোঝাতে চাই যে, সংলাপই একমাত্র পথ। আমরা চাই না যুদ্ধ শুরু হোক।’
সূত্রঃ রয়টার্স
