সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনসহ চারজনকে বরখাস্ত না করে তাদের একজনকে পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত অন্য তিনজনকে পদায়ন না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে। নির্যাতনের শিকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ট্রিবিউন’র কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানের পক্ষে গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইশরাত হাসান।
অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুলতানা পারভীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। মামলায় তারা এখনো জামিন চাননি। আদালতে পুলিশ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দেয়নি। ফলে আইনের দৃষ্টিতে তারা এখনো পলাতক। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বরখাস্ত না করে একজনকে ইতিমধ্যে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনজনকে পোস্টিংয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এটি আইনবহির্ভূত। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠানো হলেও জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছে।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের একটি পুকুর সুলতানা পারভীনের নামে নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে গত বছর ১৩ মার্চ মধ্যরাতে আরিফুল ইসলাম রিগানকে তার বাড়ি থেকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা। এরপর তাকে জেলা প্রশাসনে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তার কাছে আধা বোতল মদ ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এমন ঘটনায় দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এ ঘটনায় শাস্তিস্বরূপ সুলতানা পারভীনের দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত, এনডিসি রাহাতুল ইসলামের তিনটি ইনক্রিমেন্ট কর্তন করে বরিশাল ডিসি অফিসে পদায়ন, আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে নিম্ন ধাপে নামিয়ে দেওয়া এবং রিন্টু বিকাশ চাকমার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। রিন্টু বিকাশ চাকমার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও অন্য তিনজনের বিষয়ে ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।
