বরিশালে ১৮ আগস্ট সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার আগেই বদলি করা হয়েছিল ইউনএও মুনিবুর রহমানকে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ১০ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল ফাতে মোহম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলি আদেশ জারি হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনস্বার্থে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে গত ১০ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তার বদলি নিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। অনেকে মনে করছেন ১৮ আগস্ট বরিশালের সদর উপজেলায় ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে বদলি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান জানান, তার বাবা, মা করোনা পজেটিভ। তা ছাড়া বদলির আদেশ হলেও ইউএনও পদে নতুন কাউকে পদায়ন না করায় তার নতুন কর্মস্থলে যোগদানে বিলম্ব হচ্ছে।
মুনিবুর রহমান ২০২০ সালের ৪ মে বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীয় হায়দার জানিয়েছেন, ইউএনও মুনিবর রহমানের বদলি তার ইচ্ছায় গত ১০ আগস্ট হয়েছে। কিন্তু সদর উপজেলার এসিল্যান্ড করোনা আক্রান্ত থাকায় তাকে কাজ চালিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিলে ইউএনও তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাবেন। কাজেই ইউএনওর বদলি স্বাভাবিক।
এদিকে ঘটনার একদিন আগে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামের বদলির প্রজ্ঞাপনও জারি হয়। তাকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (এঅ্যান্ডআই) ড. মাইনুর রেজা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ আগস্টের মধ্যে ওসি নুরুল ইসলামকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
গত ১৮ আগস্ট রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের বাসায় হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীদের রুখতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবাদে বুধবার মধ্যরাত থেকে বরিশালে সড়ক ও নৌ যান চলাচল বন্ধ থাকে প্রায় ৭ ঘন্টা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ বন্ধ রাখেন বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। হামলার ঘটনায় ১৯ আগহস্ট উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়। দুটিতেই বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়।
এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মীদের মামলায় আসামি করা হয়।
মেয়রের নির্দেশে শনিবার রাত ৯ টা থেকে বর্জ্য অপসারনের কাজ শুরু করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
রোববার দুপুরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং বিসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হাওলাদার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি নালিশি আবেদন দাখিল করেন।
নালিশি আবেদনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ্ জালাল মল্লিক ও পাঁচ আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে সিটি মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ, অওয়ামী লীগের পুলিশের লাঠিচার্জসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
ওইদিন রাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে এসব ঘটনায় সমঝোতা হয় বলে জানানো হয়। মামলা প্রত্যাহারেও দুপক্ষ একমত হয় বলে বৈঠক সূত্র জানায়।
