সাংবাদিকদের সিআইডি প্রধান

পরী-পিয়াসাদের মামলার চার্জশিট দেড় মাসের মধ্যে

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২১, ০২:০৬ এএম

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, হেলেনা জাহাঙ্গীর, জিসান, মিশুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫টি মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আগামী এক থেকে  দেড় মাসের মধ্যে এসব মামলায় একে একে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব এ কথা বলেন তিনি। সিআইডি প্রধান বলেন, ‘আমরা ১৫টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিটি মামলার মোটিভ, গতি-প্রকৃতি আলাদা। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ যেমন সাক্ষী-আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা, আলামত সংগ্রহ ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা। মাদক মামলার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফরেনসিক ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। সেগুলো আমি করতে দিয়েছি। আসামি ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ আমাদের প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পেলেই এই ১৫ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা শুরু করতে পারব। আশা করছি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল করা শুরু হবে।

পরীমনি বা পিয়াসাদের বাসায় মাদক রাখা ও সংগ্রহ করার বিষয়ে কী ধরনের তথ্য  পেয়েছে সিআইডি- জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মাদক মামলার আলামত  তো পাওয়াই গেছে। সেগুলো আদৌ মাদক কি-না তা জানতে কেমিক্যাল ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

 মাদকের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই অনেক রকম তথ্য দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন- কেউ বলেছেন বিমানবন্দর   থেকে কিনেছেন, কেউ নানা উপায়ে সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু যেখান থেকেই সংগ্রহ করা  হোক না কেন, এইসব মাদক অননুমোদিত উপায়ে সংগ্রহে রাখা বা মজুদ রাখা আইনত অন্যায়।’

আসামিদের বিরুদ্ধে ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমের তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, ‘তদন্তের এই পর্যায়ে আমরা অর্থপাচারের তথ্য-উপাত্ত ইনকোয়ারি পর্যায়ে আছি। অর্থপাচার মামলার ক্ষেত্রে দুটি পর্যায়। একটি যাচাই-বাছাই, আরেকটি ইনকোয়ারি। আমরা ইনকোয়ারি পর্যায়ে আছি। প্রায় ২২টি জায়গা থেকে রিপোর্ট পেতে হয়। সব রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর যদি মনে হয় অর্থপাচার হয়েছে তাহলে আমরা তদন্ত করব।’

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে সিআইডি তথ্য চেয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকের তথ্য চেয়েছি। যাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর মনে হয়েছে অর্থপাচার সংক্রান্ত কিছু আছে তাদের বিষয়ে আমরা তথ্য চেয়েছি। আমরা  সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। যারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তার সঙ্গে ১৬১ ধারায় দেওয়া তথ্যের মধ্যে কী মিল বা কোনো পার্থক্য ছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব বলেন, ‘যারা ১৬৪ করেছে তাদের ১৬১ ধারায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল খুঁজেছি।  যেটার মিল ছিল না সেটা আলাদা পার্ট করেছি। প্রয়োজনে সেগুলো আমরা আবার তদন্ত করব। তবে অনেক তথ্যের মিল ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত