সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের সলপ রেলস্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকা গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণের তিন দিন পরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উল্টো তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ও পুলিশকে নাম না বলতে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ।
বুধবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর ছোট বোন সাংবাদিকদের এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, চলার পথে হামলার ভয়ে অফিসে যেতেও ভয় পাচ্ছি। অফিসে গেলেও বিকেল হওয়ামাত্র বাড়ি চলে আসছি। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এর মধ্যে বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যাওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি আরো জানান, তার বোন ঘটনার পর থেকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করছেন না। লোকজন দেখলেই আতঙ্কে চমকে উঠছেন। রাতে ঘুমের ঘোরেও চিৎকার দিয়ে ওঠেন। তার দুলাভাই লোকলজ্জার ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতে পারছেন না। গেলে তড়িঘড়ি মাঝ পথ থেকে ফিরে আসছেন। এখন এমনই দুর্বিষহ জীবন কাটছে তাদের। তারা এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে গৃহবধূর স্বামী বলেন, গত ২২ আগস্ট রবিবার সন্ধ্যায় ট্রেনে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ স্টেশনে পৌঁছাই। প্ল্যাটফর্মের একটি চায়ের স্টলে আমার স্ত্রীকে বসিয়ে রেখে ভ্যান ভাড়া দিয়ে ফিরে এসে দেখি স্ত্রী সেখানে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাই। পরদিন সলপ রেলস্টেশনের আধা কিলোমিটার দূরে বেতকান্দি গ্রামের একটি আমবাগানে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার হয়। জ্ঞান ফিরলে জানা যায়, একজন অপরিচিত লোক তাকে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাতভর দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) রাতে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে উল্লাপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই বেতকান্দি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি এ মামলা তুলে নিতে ও পুলিশের কাছে তাদের নাম না বলতে হুমকি দিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি দীপক কুমার দাস বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকজন আসামিকে শনাক্ত করে তাদের নাম-পরিচয় উদ্ধার করেছি। বাকিদেরও নাম-পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ছাড়া বুধবার দুপুরে ভিকটিমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হুমকির বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
