সেপ্টেম্বরের শুরুতে মধ্যমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২১, ০২:১২ এএম

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সারা দেশে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। উজানের ঢলের সঙ্গে বৃষ্টি মিলে দেশের প্রধান নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন নতুন অঞ্চলে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গতকাল বুধবার সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এসব তথ্য দিয়েছে। এতে বলা হয়, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সারা দেশে ও উজান অববাহিকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে প্রধান নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মা অববাহিকার কিছু জেলায় বন্যা দেখা দেয়। আগামী দুই সপ্তাহ উজান অববাহিকার অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে। একইভাবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও  উত্তর-মধ্যাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বেড়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা হতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসের শেষদিকে তিস্তা ও ধরলার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর এবং কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গঙ্গা অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা নেই জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, আগামী দুই সপ্তাহে মধ্যাঞ্চলের পদ্মা অববাহিকার পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরে চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সঙ্গে নতুন করে মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর ও মাদারীপুরে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা হতে পারে। তবে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছেÑ বৃহস্পতিবারের মধ্যে টাঙ্গাইল, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ ও মথুরা পয়েন্টে; তিস্তা নদীর ডালিয়া এবং ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্ট পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পুনর্ভবা, কুলিখ, ট্যাঙ্গন, করতোয়া, আত্রাই, তিস্তা. ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

পর্যবেক্ষণে থাকা নদনদীর ১০৯টির মধ্যে গতকাল পর্যন্ত পানি বেড়েছে ৬৬ পয়েন্টে। এর মধ্যে সাতটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। আর ৩৯টি পয়েন্টে পানি কমেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে নেত্রকোনায় ৫৯ মিলিমিটার। আর ঢাকায় হয়েছে সবচেয়ে কম ৯ মিলিমিটার।

সিরাজগঞ্জে মাচায় বসবাস দুর্গতদের : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ ও আরকান্দি গ্রামের বন্যাদুর্গত শতাধিক নারী-শিশু চৌকি উঁচু করে অথবা মাচা পেতে বসবাস করছে। সেখানেই তারা রান্না করে, খায় ও ঘুমায়।

বাড়ির উঠানে কোমর পানি, টিউবওয়েল ডুবে গেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণ গ্রামের আবদুল বারেক শেখ জানান, এক সপ্তাহ ধরে ঘরবাড়ি পানির নিচে। অর্থাভাবে তারা বাজারঘাট করতে পারছেন না। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন। কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছে না।

খুকনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুকচান জানান, সরেজমিনে দেখার পর দুর্গতদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘বন্যাদুর্গত কেউ জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে তার কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত