আফগানদের নতুন জীবন জার্মানির তাঁবুর শহরে

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২১, ১০:২৪ পিএম

তালেবানের পুনরুত্থানে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়া আফগানদের নতুন জীবন শুরু হচ্ছে জার্মানির একটি বিমানঘাঁটি থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবস্থানের পরই আফগানিস্তান ছেড়ে আসা আফগানদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘাঁটিটি কয়েক হাজার আফগানে ভর্তি হয়ে গেছে।

সারি সারি তাঁবু টানানো রামস্টেইন ঘাঁটিকে দেখলে মনে হবে যেন তাঁবুর শহর। এখানে আসার পর আফগানদের শারীরিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে প্রথমে। শারীরিক পরীক্ষা শেষ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করার আগ পর্যন্ত তাঁবুতেই থাকতে হচ্ছে আফগানদের। সব কিছু ঠিক থাকলে ওই ঘাঁটি থেকেই বাণিজ্যিক বা সামরিক ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন তারা।

কাবুল বিমানবন্দরের ভীতিকর অভিজ্ঞতার পর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জার্মানিতে পৌঁছানোর পরই অনেক আফগানের শরীরে দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা। যদিও ঘাঁটির চিকিৎসকদের মতে, কিছুদিনের মধ্যেই এসব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। সমস্যাগুলোর অধিকাংশই ভীতি ও দীর্ঘ বিমানযাত্রার কারণে। কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে তাদের পাড়ি দিতে হয়েছে তালেবানদের তল্লাশিচৌকি। কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশ করার পর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা ফ্লাইটের জন্য। ফ্লাইটে করে প্রথমে আফগানদের নেওয়া হয় কাতার অথবা কুয়েতে। সেখান থেকে জার্মানিতে। তাঁবুর এই শহরে বর্তমানে থাকা আফগানদের মধ্যে অনেকেই আহত। কেউ ভিড়ের মধ্যে চলতে গিয়ে হাত অথবা পা ভেঙেছেন। আবার কারও মাথা ফেটে গেছে। তিন আফগান নারীর সন্তান হয়েছে রামস্টেইনে যাওয়ার পথে।

বিমানঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই ৩৪০টি তাঁবু বসানো হয়েছে। আরও ১৭ হাজার মানুষের আবাসনের জন্য তাঁবু বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। বিমানঘাঁটিটির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জশ অলসন বলেন, ‘ইউরোপ ও আফ্রিকায় অপারেশনের জন্য এই বিমানঘাঁটিটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন এটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ নিয়েছে।‘ ঘাঁটিতে আশ্রয় নেওয়া আফগানদের সহায়তার জন্য গোটা ইউরোপ থেকে সাহায্য আসছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে তিন বেলা আহার দেওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তার সবই মেটাচ্ছে ইউরোপ। প্রতিদিন ৩০ হাজার জনের খাবার তৈরি করতে হচ্ছে সেখানে। ভবিষ্যতে আরও কত মানুষকে ওই ঘাঁটিতে আশ্রয় দিতে হয় তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত