তেঁতুলিয়ায় খাস জমি দখল করে চা বাগান

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ১২:৩৫ এএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় খাস জমি দখল করে চা বাগান করেছে একদল প্রভাবশালী। শুধু তাই নয়, খাস জমিতে থাকা কবরস্থান ও শ্মশানঘাটে যাওয়ার রাস্তায় বাঁশ গেড়ে, বাঁশের বেড়া দিয়ে ও রাস্তা কেটে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লাশ দাফন কিংবা সৎকার করতে পারছেন না এলাকাবাসী। এছাড়া রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় নদীতেও যেতে পারছেন না গ্রামবাসী।

বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এর আগে এ ব্যাপারে গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ করাসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের কালিয়ামনি গ্রামে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ দুই হাজার পরিবারের বসবাস। এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। নদী তীরবর্তী এলাকায় সরকারি প্রায় ২৫ একর খাস জমি রয়েছে। ওই জমিতে রয়েছে মুসলামনদের কবরস্থান, হিন্দুদের শ্মশান ও খ্রিস্টানদের সমাধি।

কিন্তু দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন উল হক ও তার পরিবারের সদস্য মির্জা, আবু সালেক, আবু তালেব, সালাম, এনামুল, জমিরুল, আনারুল, হামিদুলসহ একদল প্রভাবশালী কিছু সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে পুরো খাস জমি দখল করে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে তৈরি করেছেন চা বাগান। ফলে কবরস্থান, শ্মশানঘাট ও নদীতে যেতে পারছেন না এলাকাবাসী। রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে রগ কেটে দেওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ সংখ্যালঘু ও গ্রামবাসীর ওপর নির্যাতন ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে গেলে দখলদাররা তাদের ভিডিও করতে মানা করে ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা প্রদীপ কুমার রায় বলেন, খাস জমিগুলো দখল করে নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত একদল দুষ্কৃতকারী। তারা কিছু জমি লিজ নিলেও সরকারের প্রায় ২৫ একর খাস জমি দখলে নিয়ে চা বাগান করেছে। দখলে বাধা দেওয়ায় দখলদাররা আমাদের ওপর হামলা করেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফরিদ বলেন, দেবনগর ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনুল হক ও তার পরিবারের সদস্যদের কারণে গোরস্থান ও শ্মশানে লাশ নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

কালিয়ামনি গ্রামের শান্তি রানী বলেন, নদীতে আমাদের অনেক পূজা-অর্চনা করতে হয়। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় নদীতে গিয়ে গোসলও করতে পারছি না।

দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন উল হক বলেন, পাঁচ ফুট রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমার পরিবারের সদস্যদের বলেছি। সরকারি জমি কে কতটুকু দখলে রেখেছেন তা মাপজোখ করে দেখার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, সমস্যা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নোটিস দেওয়া হয়েছে দখলদারদের। বিনা বাধায় যাতে সব ধর্মের মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করতে পারে এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত