প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে ৪৫ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে আরও ৯ হাজার ৯৬৯ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নতুন এই মাইলফলকে পৌঁছাল করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাব বলছে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যু হার ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে করোনায় মারা যাওয়া এই ৪৫ লাখের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত, পেরু, মেক্সিকো, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, কলাম্বিয়া, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ইরানে। উল্লিখিত ১৩ দেশে মৃত্যু হয়েছে লাখের বেশি করে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২১ কোটি ৬৩ লাখ ৯ হাজার ৭৮৬ জনের। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৫ লাখ ২ হাজার ৬৭৭ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৯ কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজারের বেশি।
করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে এখনো বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মাঝে কিছুদিন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফের বাড়তে শুরু করেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে প্রায় দুই লাখ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে এক হাজার জনের বেশি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৩ জন। এর মধ্যে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০৪ জন মারা গেছে। আর সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪৫ জন। সংক্রমণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪০৩ জন। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৩ হাজার জন।
সংক্রমণে তৃতীয় কিন্তু মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে শনাক্তের সংখ্যা ২ কোটি ৭ লাখ ৩ হাজার জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯৪ জন। আর সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৩ জন।
সংক্রমণের তালিকায় এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, স্পেন, ইরান, ইতালি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে।
