পরীমণি ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিবৃতি দাবি করেছেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাড়িয়ে এই বিবৃতি দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে হারুন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পরীমণি গণমাধ্যমে বলেছেন, কত নাটক করে তাকে ধরে নেওয়া হয়েছে। তাকে বলা হয়েছিল, শুধু অফিসে নেওয়া হবে আর কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হারুন বলেন, পরীমণির ঘটনা তদন্তের তদারক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরীমণির বাসায় অভিযান চালিয়েছিল র্যাব। র্যাব নিজেরা এ ঘটনা তদন্ত করার দাবি জানিয়েছিল। কারণ এর পেছনে অনেক বড় শক্তি জড়িত। এদের যারা ব্যবহার করছে তাদের চিহ্নিত করা দরকার। পরীমণির ঘটনায় হাইকোর্ট পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত বলেছে, পরীমণি একজন নারী, অসুস্থ, চিত্রজগতের কর্মী এজন্য জামিন দেওয়া হয়েছে। এটা কোনো কথা হতে পারে! তাকে পরপর তিন দফায় কেন রিমান্ডে নেওয়া হলো তা নিয়ে হাইকোর্ট নথি তলব করেছে। এটা নিয়ে জনগণের মধ্যে ‘পারসেপশনটা’ ভিন্ন হচ্ছে।
সংসদের গত অধিবেশনে হারুন এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, নদীর তীরবর্তী জায়গায় বোট ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে কি না? বোট ক্লাবে নিয়মিত মদ্যপান করা হয়, তাস খেলা হয়, জুয়া খেলা হয়Ñ পুলিশপ্রধান এ রকম একটি ক্লাবের সভাপতি কোনো আইনে থাকতে পারেন কি না?
বোট ক্লাব সরকারের অনুমোদন নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে কি না এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সরকারের অনুমতি নিয়ে এই ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন কি না তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।
পয়েন্ট অব অর্ডারে হারুন বলেন, ‘আমার জানা নেই ৫০ বছরের ইতিহাসে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ ধরনের কোনো ক্লাবে পুলিশের প্রধান সভাপতির দায়িত্ব বা এ রকম ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন।’
