শুক্র ও শনিবার এলেই ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ক্লিনিকগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লেগে যায়। স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না এসব ক্লিনিকে। কোথাও থাকে না তিলধারণের ঠাঁই। এক্স-রে রুম, আলট্রাসনোগ্রাম, ডাক্তার দেখানো বা সিজার করার জন্য গাইনি বিভাগ কিংবা অপারেশন থিয়েটার সব জায়গায় ধাক্কাধাক্কি করে সেবাগ্রহীতাদের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়।
নিরুপায় হয়ে এটাই এখন সহনীয় হয়ে পড়েছে এই দুই উপজেলার রোগীদের কাছে। আগে থেকে সিরিয়াল না নেওয়ায় কেউ কেউ সকালে এসে বসে থাকেন বিকেল পর্যন্ত। এসব ক্লিনিকে রোগীদের বেশিরভাগই নারী।
দোহার উপজেলার দোহার জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, অসংখ্য রোগী বসে আছেন সিরিয়াল দিয়ে। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক রোগী বলেন, গতকাল এসেছিলাম, বাধ্য হয়েই আজ আবার আসতে হয়েছে। কারণ আমি আলট্রাসনোগ্রাম করাব, কিন্তু নারী ডাক্তার শুক্রবার ছাড়া পাওয়া যায় না। এত বড় একটা ক্লিনিক হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ কেন স্থায়ীভাবে কোনো নারী ডাক্তার রাখতে পারে না তা বোধগম্য নয়।
একই চিত্র দোহার-নবাবগঞ্জের অন্যান্য হাসপাতালেও। অন্যান্য দিনের চেয়ে শুক্রবার ভিড় বেশি হয়। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অযাচিত ভিড় তো আছেই। এ ক্ষেত্রে দুই উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ক্লিনিকগুলোকে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে রোগীদের প্রতি আরও শৃঙ্খল হওয়ার ও সেবা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন রোগী ও স্বজনরা।
এ বিষয়ে জয়পাড়া ক্লিনিকের প্রশাসনিক শাখায় কর্মরত আসিফ বলেন, আমাদের হাসপাতালে শুক্রবার রোগীর চাপ বেশি থাকে। সেজন্য লাইনও লম্বা হয়। এছাড়া আগের থেকে অধিকাংশ রোগীই সিরিয়াল নেন। ঢাকার ডাক্তারদের সবাইকেও এই দুদিন পাওয়া যায়। সেজন্য রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট বা ভিজিটে একটু সময় লাগে।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন এ ব্যাপারে বলেন, আমরা প্রতিটি ক্লিনিককে চিঠি দিয়েছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য।
