নতুন কৌশলে ছায়া সরকার

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩১ পিএম

মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন কৌশল ঘোষণা করেছে দেশটির জান্তাবিরোধীদের নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকার। এই ছায়া সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দুয়া লাশি লা গতকাল মঙ্গলবার এক বক্তৃতায় নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স। নতুন এ কৌশল অনুযায়ী ঐক্য সরকার মিয়ানমারে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। দুয়া লাশি লা বলেন, ‘বেসামরিকদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র বাহিনী (মিলিশিয়া) ও স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীগুলোর বাহিনী তাদের তৎপরতার মাধ্যমে জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে আমলাদের সরকারি পদগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে।’

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির দল এনএলডিসহ অন্যান্য জান্তাবিরোধী দলগুলোর আত্মগোপনকারী নেতাদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করা হয়।

সামরিক সরকারকে চাপে ফেলতে বিরোধীরা যখন নতুন কৌশল ঘোষণা করেছে, তার ঠিক আগেই আসিয়ানের অস্ত্রবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে জান্তা সরকার। মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে আসিয়ানের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আসিয়ানের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জাপানের সংবাদ সংস্থা কয়োদো এ তথ্য জানিয়েছে। রয়টার্স বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেখানে সহিংসতা বন্ধের চেষ্টা করে আসছিল আসিয়ান। মিয়ানমারে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সহিংসতায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

আসিয়ান মুখপাত্র এরেওয়ান ইউসুফ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উন্না মং লুইনের সঙ্গে এক ভিডিও আলোচনায় যুক্ত হয়ে অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে মিয়ানমারের সামরিক সরকার রাজি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন।

এরেওয়ান বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক অস্ত্রবিরতি নয়। মানবিক সহায়তা প্রদানকারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অস্ত্রবিরতি। অস্ত্রবিরতির বিষয়ে আমি যা বলেছি, তাতে দ্বিমত করেনি তারা।’

এরেওয়ান পরোক্ষভাবে তার প্রস্তাবটি মিয়ানমারের সামরিক শাসনবিরোধী দলগুলোর কাছেও পাঠিয়েছিলেন। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জান্তা সরকারের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ক্ষমতার দখল নেয়। এরপর ক্ষমতাসীন অং সান সু চিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে দেশটিতে জান্তার বিরোধিতা ও গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে জান্তা বাহিনীর গুলিতে সহস্রাধিক নিহত হয়েছে। চার হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত