সড়ক সংস্কারের নামে তিনবিঘা করিডর সংকুচিতের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৪ এএম

তিন দিক থেকে ভারতীয় সীমান্তে ঘেরা লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র সড়ক তিনবিঘা করিডর সংস্কারের নামে সংকুচিত করছে ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষ। দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নিয়ন্ত্রাণাধীন এ সড়কটির দুদিকে তিন দিন ধরে ১০ ফুট গভীর গর্ত করা হয়। পাশাপাশি সড়কটিতে তিন ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণের জন্য লোহার কাঠামো বসানোর কাজ চলে। বিজিবিকে বিএসএফ জানায়, সড়কটি সংস্কার করে সৌন্দর্য্যবর্ধন করা হবে। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি বুঝতে পারে সংস্কার ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের নামে মূলত সড়কটি সংকুচিত করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার সকালে প্রতিবাদ জানিয়ে সড়ক ‘সংস্কারকাজে’ বাধা দেয় বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন।

অবশ্য বিএসএফ বাধা না মেনে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালালে বিজিবি তা রুখে দেয়। পরে উভয় বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডাররা ঘটনাস্থলে এসে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে কাজ বন্ধ রাখে।    

জানা গেছে, বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড পাটগ্রামের কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের পানবাড়ি এলাকায় সংযুক্ত হতে দহগ্রাম ইউনিয়নের ভূখন্ড পর্যন্ত ১৭৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮৫ মিটার প্রস্থ্যের ভারতীয় তিনবিঘা করিডোর সড়কটি ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারের জন্য ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সরকারের সাথে আলোচনা করে খুলে দেন। তখন থেকে একটানা সড়কটি ব্যবহার করছে বাংলাদেশের লোকজন। এক সপ্তাহ আগে তিনবিঘা করিডোরের ভারতীয় অংশে ইট, বালু, সিমেন্ট ও লোহাসহ নির্মাণ সামগ্রী এনে রাখা হয়। পরে গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সড়কটি ‘সংস্কার’ করতে সকাল থেকে প্রায় ১২-১৫ জন নির্মাণশ্রমিক সড়কের দুই পাশে গর্ত খুঁড়তে থাকে। ওইদিন ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পানবাড়ি কোম্পানি কমান্ডার জাহাবুল ইসলাম তিনবিঘা করিডোরে নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা বিএসএফ সদস্যদের কাছে গর্ত করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা (বিএসএফ) বলে, ঊর্ধতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে সড়কটি সংস্কার ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের কাজ করা হবে। সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। প্রথম দুই দিনে সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশে গর্ত করা হয়। এছাড়া সড়কের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে লোহার কাঠামো বসিয়ে ৩ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ করতে থাকে। ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষ যেভাবে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল তাতে নির্মাণকাজ শেষ হলে বাংলাদেশি মানুষ ও যান চলাচলে বিঘœ হত। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই কাজ বন্ধের জন্য গতকাল সকাল নয়টার দিকে বাধা দেয় বিজিবি। এরপরও বিএসএফ কাজ করার জন্য নির্মাণ সংশ্লিষ্ট ভারতীয় লোকজনদের নির্দেশ দেয়। এতে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে ভারতীয় ৪৫ রানীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের তিনবিঘা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বিকাশ রায় এবং বাংলাদেশের ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পানবাড়ি কোম্পানি কমান্ডার জাহাবুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেন। শেষমেষ তারা দু’জন কাজ বন্ধে একমত হন। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

উত্তেজনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা মমিন প্রামানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেভাবে দেয়াল নির্মাণ করছিল এতে সড়কটি আরও চিকন হত। মানুষের চলাচলে সমস্যা হত। এজন্য সবাই গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেই।’

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা আহাম্মদ মন্ডল বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে ভারতের লোকজন অবাধে চলাচল করে। আমরা শুধু হেঁটে রাস্তা পার হই। বিএসএফ সংস্কারের নামে রাস্তাটি ছোট করছিল।’

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান বলেন, ‘সৌন্দর্যবর্ধনের নামে তারা (ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষ) রাস্তা খুঁড়ছিল। মঙলবার রাতে দেখি ফর্মা বসিয়েছে, ওখানে ৩ ফুট দেয়াল দিবে। এতে তো মানুষের চলাচলে সমস্যা হবে। সে কারণে ইউনিয়নের লোকজন বিজিবিসহ নির্মাণ কাজ বন্ধে বাধা দেই।’

এ প্রসঙ্গে ৫১ বিজিবির পানবাড়ি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার জাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতীয় নির্মাণশ্রমিকদের দিয়ে রাস্তার দুই পাশে সংস্কারের নামে দেয়াল নির্মাণ করছিল। আমরা বাঁধা দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ইসহাক আলীর সঙ্গে  যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত