রূপগঞ্জে বেপরোয়া ৫০ কিশোর গ্যাং

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪২ পিএম

 

 

রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে শিল্পাঞ্চলখ্যাত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন কিশোর গ্যাং। তাদের বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। পাড়ার মোড়ে মোড়ে দিব্যি চলে এদের আড্ডা। সেখান থেকেই তৈরি হয় অপরাধের নানা পরিকল্পনা। গ্রুপে গ্রুপে দ্বন্দ্বের কারণে প্রায়ই রামদা-ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায় তাদের। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে এসব কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রায় ৫০টি কিশোর গ্যাং চক্র। বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব গ্যাংয়ের চার শতাধিক সদস্য। চুরি, ছিনতাই, খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি, নারী উত্ত্যক্ত, মারামারি, সংষর্ঘ, ভাড়ায় খেটে অপকর্ম করাসহ নানা অপরাধে তারা এলাকাকে অস্থির করে তুলেছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রত্যেকের বয়স ১৩-১৮-এর মধ্যে। তাদের অধিকাংশই সারাদিন নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। নানা অপরাধে জড়িয়ে দিন দিন তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এলাকার মুরব্বি এমনকি নিজেদের অভিভাবকদেরও পরোয়া করে না। একটি গ্যাংকে দমাতে তৈরি হচ্ছে অন্য গ্যাংয়ের। তাদের দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও তেমন কোনো তৎপরতা নেই।

জানা গেছে, রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এ ইউনিয়নে অন্তত ১২টি কিশোর গ্যাং চক্র রয়েছে। শুধু চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রেই আছে নয়টি গ্যাং। এ পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদক, জুয়াসহ সব অপরাধীর আনাগোনা বেশি। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখানে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিশোর গ্যাংকে কেন্দ্র করে এখানে খুনের ঘটনাও ঘটেছে অতীতে।

মুড়াপাড়ায় রয়েছে ৭টি কিশোর গ্যাং, তারাব পৌরসভায় ১০টি এবং কাঞ্চন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গড়ে উঠেছে অন্তত ৫টি কিশোর গ্যাং চক্র। এছাড়া ভুলতা ইউনিয়নে ৫টি কিশোর গ্যাং চক্র সক্রিয়। গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে অন্তত ৬টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। কিশোর গ্যাংকে কেন্দ্র করে এ ইউনিয়নে প্রায়ই রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বন্দ্বের বলি হতে হয়েছে সানি আহমেদ নামে এক কিশোরকে। রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ৩০০ ফুট সড়ককেন্দ্রিক নানা অপরাধে জড়াচ্ছে ৩টি কিশোর গ্যাং। ভোলাব ইউনিয়নে ২টি এবং দাউদপুর ইউনিয়নে ৪টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গেও জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, অপরাধীদের বিষয়ে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত