সবার অংশগ্রহণে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠনে তালেবানদেরকে যে আহবান জানিয়েছিল ইরান তার ওপর ফের জোর দিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার তালেবানরা যে নতুন আফগান সরকার ঘোষণা করেছে তাতে নারী বা শিয়াদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
তালেবানের নতুন সরকার ঘোষণার একদিন পরই গত বুধবার ইরান, চীন, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় ওই বৈঠকে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেন, ইরান আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহণে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠনের ব্যাপারে ফের জোর দিচ্ছে। এবং ইরান আশা করে যে, তালেবানরা এমন একটি প্রশাসন গড়ে তোলার ব্যাপারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা মেনে চলবে।
ইরান ওই বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদেরকেও আফগানিস্তানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের বিষয়ে জোর দেওয়ার জন্য একমত হওয়ার আহ্বান জানায়। কেননা ইরান মনে করে, তালেবানরা যে সরকার ঘোষণা করেছে তা আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং অগ্রগতিতে বাধা তৈরি করবে।
সেদিন ইরান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আফগানিস্তানের অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করে।
বৈঠকের পর কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটে বলেন, কাতার বিশ্বাস করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমেই আফগানিস্তানের সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হতে পারে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার, ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ তালেবানকে ‘ভয়াবহ কৌশলগত ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি এক টুইট বার্তায় আরও বলেন, কোনো দেশীয় বা বিদেশি শক্তি আফগানিস্তানে জোরপূর্বক শাসন করে টিকে থাকতে পারেনি। ব্রিটিশ, সোভিয়েত রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র এই তিন পরাশক্তিও শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তালেবানরাও জোরপূর্বক তাদের শাসন চাপিয়ে দিলে টিকে থাকতে পারবে না। সুতরাং ফের স্রোত বদলে যাওয়ার আগেই সবাইকে সম্পৃক্ত এবং অন্তর্ভুক্ত করতে হবে’।
এক দিন আগে এক টুইটে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী শামখানি আফগানিস্তানের নতুন সরকারে দেশটির সব গোষ্ঠীর প্রতিনিধি না রাখা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং সামরিক শক্তির ব্যবহার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের শুরুতে, পাঞ্জশির দখলের সময়ে হতাহতের খবর পাওয়া গেলে ইরান সেখানে তালেবানের হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং হত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানায়। এ ছাড়া তালেবানদের বিরুদ্ধে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনেক মানুষকে বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে।
