বঙ্গবন্ধুর নামে গড়ে তোলা গবেষণাগারে ঝোপঝাড়

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৪ এএম

দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় এখন ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অধীনে থাকা বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজ চত্বর। এ ইনস্টিটিউটটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থেকে বশেমুরবিপ্রবিতে মৌখিকভাবে হস্তান্তর হলেও লিখিতভাবে কোনো কিছু হয়নি। এ কারণে সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না বশেমুরবিপ্রবি। তাই এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে গড়ে তোলা গবেষণাগারটি প্রায় পরিত্যক্ত।

সরেজমিন দেখা যায়, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর নামে গড়ে ওঠা এ ইনস্টিটিউটটি বর্তমানে বিচ্ছুর আশ্রয়স্থল ও গবাদিপশুর বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গবেষণাগারটির বিভিন্ন রুমে লতাপাতা বেড়ে চলেছে। তাছাড়া প্রধান ফটকেও মরিচা ধরেছে। ভেঙে আছে বেশ কয়েকটি জানালার কাচ। এছাড়া ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে রং চটে গেছে অনেক আগেই। ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা।

বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজে বশেমুরবিপ্রবির আওতায় কার্যক্রম শুরু হয়। আগে এ গবেষণাগারটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। তবে তা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিক্রমে বশেমুরবিপ্রবিকে প্রদান করা হয়। এরপর থেকে গবেষণা কেন্দ্রটির দায়িত্বে বশেমুরবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ।

বশেমুরবিপ্রবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ জানান, ইউজিসি কর্তৃক তাদের বিভাগের অনুমোদন না হওয়ায় বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজের ভবনটিতেও শিক্ষাসহায়ক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাটাও অন্যতম। তিনি বলেন, আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমাদের নিজস্ব পরিচয় প্রদান করবে। এছাড়া ভবনটির সংস্কার ও সঠিক পরিচর্যা করবে।

বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজের শিক্ষক ড. আবু সালেহ বলেন, বশেমুরবিপ্রবির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব আসার পর ইনস্টিটিউটটিতে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তবে করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, এ ইনস্টিটিউট নিয়ে আমাদের ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মৌখিকভাবে হস্তান্তর হলেও দালিলিকভাবে কোনো কিছু হয়নি। কাগজপত্রে আমাদের আয়ত্তে এলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত