এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ দুজন গ্রেপ্তার

‘সুদমুক্ত বিনিয়োগের’ ফাঁদে নিঃস্ব লাখো মানুষ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৮ এএম

মো. রাগীব আহসান (৪১)। একসময় পিরোজপুরের ইয়াসিন খাঁ সেতু লাগোয়া মসজিদে নামমাত্র বেতনে ইমামতি করতেন। ২০০৬-০৭ সালের দিকে ইমামতির পাশাপাশি ‘এহসান এস মাল্টিপারপাস’ নামে একটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিতে মাসে ৯০০ টাকা বেতনে চাকরি নেন। সেই রাগীব আহসান এখন প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। নিজে বিভিন্ন নামে খুলেছেন ১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একেকটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছেন নিকট সব আত্মীয়কে। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ টাকার বিনিয়োগে মুনাফা হিসেবে মাসিক মাত্রাতিরিক্ত টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখাতেন গ্রাহকদের।

বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে ‘শরিয়তসম্মত সুদবিহীন বিনিয়োগ’-এর প্রচার চালিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন রাগীব আহসান। আবাসন প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কথিত বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এক লাখের বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। কোনো গ্রাহক টাকা ফেরত চাইলে তাকে হতে হয়েছে নির্যাতনের শিকার।

আত্মসাৎ করা টাকার বেশিরভাগই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন রাগীব আহসান। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ভুক্তভোগীদের করা ১৫টি মামলা চলমান রয়েছে। ২০১৯ সালে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের প্রতারণা শুরু করেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্তত ২০টি জেলায় রাগীব আহসানের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কমিশন না পেয়ে আর গ্রাহকরা লাভের টাকা না পেয়ে আন্দোলন করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার এড়াতে সার্বক্ষণিক আইনজীবী সঙ্গে নিয়ে ঘুরতেন রাগীব আহসান। তবে তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার তোপখানা রোড থেকে রাগীব আহসান ও তার সহযোগী মো. আবুল বাশার খানকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাব সদস্যরা। গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে রাগীব আহসানের বিরুদ্ধে ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এখন পর্যন্ত ১১০ কোটি টাকা সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন। গ্রাহকের টাকা মেরে বিলাসী জীবনযাপন করতেন রাগীব আহসান। তার রয়েছে একাধিক প্রাইভেট কার ও ফ্ল্যাট। ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে একাধিকবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পরিবারসহ ভ্রমণ করেছেন। তিনি বেশি ভ্রমণ করেছেন সৌদি আরবে। আত্মসাৎ করা টাকার একটি বড় অংশ সেখানে পাচার করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ওই দেশটি থেকেও ক্যাডেট মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথা বলে দেশে টাকা এনে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব টাকা জঙ্গিবাদসহ দেশবিরোধী কাজে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, ২০০৮ সালে ‘এহসান রিয়েল এস্টেট’ নামে একটি এমএলএম কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন রাগীব আহসান। সেখানে প্রতি ১ লাখ টাকার বিপরীতে মাসে ২ হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেন। প্রথমে পিরোজপুর, পরে ধীরে ধীরে বরিশাল, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শাখা খোলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় সহানুভূতিকে পুঁজি করে ‘শরিয়াহভিত্তিক’ সেøাগান ব্যবহার করে অধিক লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তখন অসংখ্য মানুষ এহসান গ্রুপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখায় টাকা জমা রাখেন। কিন্তু টাকা ফেরত নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ওইসব গ্রাহক। অনেক গ্রাহককে পাওনা টাকার বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রাহকরা ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন ওইসব হিসাব নম্বরে কোনো টাকাই জমা নেই। পরে তাদের কেউ কেউ আদালতে মামলা করেন।

রাগীব আহসান নামসর্বস্ব ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে সম্পত্তি ও জমি কিনেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এহ্সান গ্রুপ বাংলাদেশ, এহ্সান পিরোজপুর বাংলাদেশ (পাবলিক) লিমিটেড, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমেটেড, নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, জামিয়া আরাবিয়া নূরজাহান মহিলা মাদ্রাসা, হোটেল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক), আল্লাহর দান বস্ত্রালয়, পিরোজপুর বস্ত্রালয়-১ ও ২, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডিং অ্যান্ড কোং, মেসার্স মক্কা এন্টারপ্রাইজ, এহসান মাইক অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম, এহসান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, ইসলাম নিবাস প্রজেক্ট, এহ্সান পিরোজপুর হাসপাতাল, এহসান পিরোজপুর গবেষণাগার ও এহসান পিরোজপুর বৃদ্ধাশ্রম। নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের নামে রাজধানী ঢাকা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শাখা খুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রতারিত হওয়াদের একজন পিরোজপুরের রানীপুরের মনি আক্তার। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১০ সালে নূরে মদিনায় সাত বছরের জন্য ডিপিএস খুলি। সেখানে ১২ লাখ টাকা জমা করেছি। লাভসহ ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময় শেষ হলেও কোনো টাকা দেয়নি। গত মাসেও বলেছে দুই বছর সময় লাগবে। আমার মা ও ভাইও প্রতারিত হয়েছে।’

রাগীব আহসানের প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার শিকার আরেক গ্রাহক রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা শেখ হুমায়ূন কবির। এক চেকেই এহসান গ্রুপের কাছে তার পাওনা ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা। আরও কয়েকটি চেকেও প্রতিষ্ঠানটির কাছে তার বড় অঙ্কের পাওনা রয়েছে। পাওনা আদায়ে আদালতে মামলাও করেছেন হুমায়ূন কবির।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুফতি মানুষ, ওয়াজ নসিহত করেন। মসজিদের ইমাম ছিলেন, নূরে মদিনা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তিনি। নাম মাওলানা মুফতি রাগীব আহসান। তিনি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান। তার সঙ্গে আছেন আরও কয়েকজন বড় বড় মওলানা। তাদের “সুদবিহীন” শরিয়তসম্মত ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা শুনে আমিসহ অনেকেই টাকা জমা রাখি। শেষ পর্যন্ত দেখি তারাও প্রতারক। আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যায়।’

শুধু হুমায়ূন কবিরই নন, ‘শরিয়তসম্মত ব্যবসা’র নামে এরকম বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এহসান গ্রুপ। রাগীব আহসানের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে ১১ কোটি ২০ লাখ টাকার চেক প্রতারণার মামলা করেছেন শেখ হুমায়ূন কবীর। তিনি ১০ কোটি টাকার চেক প্রতারণার আরও একটি মামলা করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে। পাওনা ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার দাবিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেছেন আরেক গ্রাহক পিরোজপুরের মো. মাহমুদুল হাসান।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাগীব আহসানের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি থানায় ভুয়া সাধারণ ডায়েরি ও পাল্টা মামলা করে উল্টো পাওনাদারদের হয়রানি করেন। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি প্রতিবেদনেও ভুয়া সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করে পাওনাদারদের রাগীব আহসান হয়রানি করেন বলে উল্লেখ আছে। তার করা এ ধরনের কিছু মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ইতিমধ্যে খারিজও করেছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারদের (রাগীব আহসান ও তার সহযোগী) বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে এমএলএম কোম্পানির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার রাগীব আহসান ১৯৮৬ সালে পিরোজপুরের একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা শুরু করেন। পরে ১৯৯৬-৯৯ সাল পর্যন্ত হাটহাজারীর একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং ১৯৯৯-২০০০ সাল পর্যন্ত খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে মুফতি সম্পন্ন করেন। এরপর পিরোজপুরে একটি মাদ্রাসায় চাকরি শুরু করেন। ২০০৬-০৭ সালে তিনি ইমামতির পাশাপাশি ‘এহসান এস মাল্টিপারপাস’ নামে একটি এমএলএম কোম্পানিতে ৯০০ টাকা বেতনের চাকরি করতেন। মূলত এই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে এমএলএম কোম্পানির আদ্যপ্রান্ত রপ্ত করেন। পরে নিজে ২০০৮ সালে ‘এহসান রিয়েল এস্টেট’ নামে একটি এমএলএম কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

কমান্ডার মঈন আরও বলেন, রাগীব আহসান মূলত ধর্মীয় আবেগ/অনুভূতির অপব্যবহার করে এমএলএম কোম্পানির ফাঁদ তৈরি করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত ব্যক্তি, ইমামশ্রেণি ও অন্যদের টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। ‘শরিয়তসম্মত সুদবিহীন বিনিয়োগ’-এর বিষয়টি ব্যাপক প্রচার করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেন। এছাড়াও ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে ব্যবসায়িক প্রচার-প্রচারণা চালাতেন। মূলত লাখ টাকার বিনিয়োগে মাসিক মাত্রাতিরিক্ত টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। ২০০৮ সালে তিনি ১০ হাজার গ্রাহক জোগাড় করতে সমর্থ হন। এখন গ্রাহকের সংখ্যা লক্ষাধিক বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

রাগীব আহসানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তার প্রায় ৩০০ কর্মচারী রয়েছে। যাদের কোনো বেতন দেওয়া হয় না। কর্মচারীরা মাঠপর্যায় থেকে বিনিয়োগকারী গ্রাহক সংগ্রহ করে থাকে। তাদের গ্রাহকের বিনিয়োগের ২০% অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। ফলে কর্মচারীরা দ্রুত গ্রাহক সংখ্যা বাড়াতে থাকে। তবে এখন কর্মচারী-গ্রাহক সবাই প্রতারিত।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের নাম যুক্ত করে ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করেন রাগীব আহসান। তার কাছের আত্মীয়দের মধ্যে শ্বশুর প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি, পিতা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা, ভগ্নিপতি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। এছাড়া রাগীব আহসানের তিন ভাইয়ের মধ্যে গ্রেপ্তার আবুল বাশার প্রতিষ্ঠানের সহপরিচালক, বাকি দুই ভাই প্রতিষ্ঠানের সদস্য।

রাগীব আহসান গ্রাহকদের সঙ্গে কীভাবে প্রতারণা করেছেন জানতে চাইলে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, রাগীব আহসান চেক জালিয়াতি করতেন। অনেকেই পাওনা টাকার চেক নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এছাড়া অনেকেই ভয়ভীতি, লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হতেন। আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে। তার গ্রাহকদের অত্যাচার ও নির্যাতনের কাহিনী মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে উঠে এসেছে। সম্প্রতি পাওনা ২৮ লাখ টাকা চাইতে গেলে তার প্রতিষ্ঠানের লোক এক গ্রাহককে এসিড নিক্ষেপ করে। যা প্রকাশ পেলে দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত