বন্যার শুরু থেকে বিদ্যালয়ের চারদিকে থৈ থৈ পানি। বর্তমানেও শ্রেণিকক্ষে তিন ফুটের মতো পানি। যার ফলে, বিদ্যালয়ে ঢোকা বা ক্লাস নেওয়ার অবস্থা নেই। রোববার থেকে সারা দেশে বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টাঙ্গাইলের বাসাইলে রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির উঠানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার প্রথম দিনে উপজেলার রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস ছিল। বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘদিন পরে ক্লাস শুরু হলেও প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী-ই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে। ক্লাসে সরাসরি অংশ নিতে পেরে শিক্ষার্থী চোখে মুখে ছিল উৎফুল্লতার ছোঁয়া। তবে, এতদিন পরে ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে পারেনি। তাদের ক্লাস করতে হয়েছে বিদ্যালয়ের জমিদাতা নজির হোসেনের বাড়ির উঠানে। প্রচণ্ড গরমে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই চলেছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়াও উপজেলার মাইজখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মটেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিচতলায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় দোতলায় চলেছে ক্লাস বলে জানা গেছে।
.jpg)
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নিলুফা আক্তার বলেন, অনেক দিন পর ক্লাস করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। তবে আমাদের রঙিন স্কুলে ক্লাস করতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগত। বন্যার কারণে আমাদের স্কুলে অনেক পানি। দীর্ঘদিন পর অনেক বন্ধুরা এক সঙ্গে ক্লাস করতে পেরেছি।
শিক্ষক মো. আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, বন্যার কারণে আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস নিতে পারছি না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস করেছি। তবে জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীদের বসতে কষ্ট হয়েছে। প্রচণ্ড গরমেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পুরো এলাকাতে পানি থাকায় দূর থেকে নৌকা যোগে স্কুলে যেতে হয়। শুকনো মৌসুমেও কাদার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সব মিলিয়ে হতাশার মধ্যে আছি।
এ বিষয়ে রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা আক্তার পপি বলেন, স্বাভাবিক সময়েও বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের চারপাশে পানি থাকায় তিন মাস আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হয়। বিদ্যালয়ের ভবনটি দোতলা বিশিষ্ট হলে আমাদের জন্য ভালো হয়। বর্তমানে সময়ে একটি বাড়ির উঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিচ্ছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সনানন্দ পাল বলেন, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রাশড়া, মাইজখাড়া ও মটেশ্বর বিদ্যালয়ে এখনো পানি রয়েছে। রাশড়া এলাকাটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় ও বিদ্যালয়ে দোতলা ভবন না থাকায় একটি বাড়ির উঠানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। মাইজখাড়া ও মটেশ্বর বিদ্যালয়ে দোতলা ভবনে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের ২ হাজার ৪২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে এক হাজার ৬২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭৯৬ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
