রাকাবের মূলধন পূরণের পরিকল্পনা জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৬ পিএম

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঝুঁকিবাহিত সম্পদের বিপরীতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার কমতে কমতে ঋণাত্মক ১৭ দশমিক ২০ শতাংশে নেমেছে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকটির অন্তত ১০ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাকাব কীভাবে এই মূলধন ঘাটতি পূরণ করবে তার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশনে জমা দিতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেনকে চিঠি দিয়ে মূলধন ঘাটতি পূরণের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ জুন ত্রৈমাসিকে রাকাবের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ১৭ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমেছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। লিভারেজ রেশিও ঋণাত্মক ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ মূলধন পর্যাপ্ততার হার ন্যূনতম ১০ শতাংশ, লিভারেজ রেশিও ৩ শতাংশ এবং ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার ২ দশমিক ৫ শতাংশ সংরক্ষণ করতে রাকাব ব্যর্থ হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাকাবের বর্তমান মূলধন ঘাটতি পূরণ, লিভারেজ রেশিও এবং ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার রক্ষিতব্য মাত্রায় উন্নীত করতে ইতিপূর্বে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার অগ্রগতি এবং বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে এই মূলধন সংরক্ষণ করা যাবে তার কর্মপরিকল্পনা জানাতে ব্যাংকটিকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চিঠি পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশনকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় রাকাবের এমডিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাকাবের লোকসান ছিল ১ হাজার ৭১৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে কেবল ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকটি লোকসান দিয়েছে ৬১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

সম্প্রতি রাকাবের আয়কর উপদেষ্টা হায়দার আহমদ খান এফসিএ কর্র্তৃক প্রস্তুতকৃত সংশোধিত আয়কর বিবরণীতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিপুল পরিমাণ লোকসানের বোঝা নিয়েও প্রতি বছর দুই বার কর্মীদের পদোন্নতি দিচ্ছে রাকাব। করোনা মহামারীর কারণে গত ডিসেম্বরভিত্তিক পদোন্নতি আটকে থাকায় গত ২৪ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সমন্বয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে গত ২৭ জুন কর্মীদের পদোন্নতি দেয় রাকাব। ডিসেম্বরভিত্তিক পদোন্নতির রেশ কাটতে না কাটতেই জুনভিত্তিক পদোন্নতি প্রদানের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য গত ২৫ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিনিধি চেয়ে চিঠি দেন রাকাবের এমডি।

গত ৩১ জুলাই এ পদোন্নতির সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এই সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি না দেওয়ায় সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ৩১ আগস্ট জুনভিত্তিক পদোন্নতির ১ নম্বর কমিটিতে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সফিউল আলমকে। তবে বর্তমানে রাকাবের এমডি অসুস্থ থাকায় সাক্ষাৎকারের নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত