পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

যত খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করি তার কম খরচে আপনাদের দেই

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিল দেন বলে অপ্রয়োজনে বাতি জ্বালিয়ে রাখবেন না। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিল কম নিই। অনেক ভর্তুকি দিতে হয়। আপনার সাশ্রয়ে আরেকজন গরিব মানুষ খুবই প্রয়োজনীয় আলো পাবে, এটা মনে রাখতে হবে।’

গতকাল রবিবার নির্মাণ শেষ হওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীএসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সামরিক শাসকরা উন্নয়ন না করলেও ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল। অপরদিকে স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটার প্রচার পায়নি।  তিনি বলেন, ‘এখনো আমি এত উন্নয়ন করার পরও কিছু লোকের মুখে সমালোচনা  শুনি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে আমরা বিদ্যুৎ দেব, আলো জ্বলবে। কারণ, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। আর ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। কাজেই সেটাকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের ২০০৮ সালের যে নির্বাচন, সেই নির্বাচনের ইশতেহারে আমরা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না জানিয়ে বলেন, ‘যখন বের হই তখন আমি নিজের হাতেই সুইচগুলো অফ করি, যেখানে যেখানে আমার মনে হয় যে এখানে বিদ্যুৎ অপ্রয়োজনীয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি গণভবন সরকারি। এখানে যারা কাজ করেন, তাদের নিয়ম হচ্ছে সব জ্বালিয়ে রাখা। কিন্তু আমি যতটুকু জায়গায় বসবাস করি, সেটুকুতে আমি সাশ্রয়টা সঠিকভাবে করে রাখি, অভ্যাসটা ঠিক রাখি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিরদিন তো কেউ আর প্রাইম মিনিস্টার থাকে না। এটা হয়তো পাঁচ বছরের জন্য আসে। এরপর তো আর থাকব না। তখন তো আবার নিজের মতোই চলতে হবে। অভ্যাসটা (বিদ্যুৎ সাশ্রয়) নষ্ট করে তো লাভ নেই।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আপনারাও যারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, এটা মনে রাখবেন এক এক ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনেক বেশি খরচ পড়ে, যা আমরা আপনাদের সবাইকে খুব অল্প খরচে দিয়ে থাকি। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবাইকে বলব মিতব্যয়ী হন। যেটা হয়তো আরেকজন গরিব মানুষকে আমরা সহায়তা দিতে পারব এবং দেশ এগিয়ে যাবে।’

কেউ টিকা থেকে বাদ যাবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা টিকা দিচ্ছি। টিকা ব্যাপক হারে দেব। টিকার আওতা থেকে কেউ বাদ যাবে না। আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। যত টাকাই লাগুক, আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষকে দিচ্ছি এবং টিকার ব্যবস্থা করেছি।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, টিকা নেওয়ার পরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। আপনি হয়তো নিজে বুঝতে পারছেন না, কিন্তু অন্যকে আপনি সংক্রমিত করে দিচ্ছেন। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে এবং সব সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষাটা একটু মেনে চলবেন।

উদ্বোধন করা বিদ্যুৎকেন্দ্র পাঁচটি হলো হবিগঞ্জের জুলদায় বিবিয়ানা-৩-এ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ইউনিট-২, নারায়ণগঞ্জে মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট, বাগেরহাটে মধুমতী ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিলেটের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উত্তরণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিকা আয়েশা খান, জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিসুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। গণভবন থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকার ২০ হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম ১১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত