বিআরটিএ কর্মকর্তা ৮ বছরেই কোটি কোটি টাকার মালিক!

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৭ এএম

২০১২ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছিলেন ফারহানুল ইসলাম। আট বছরের মধ্যেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত এসব স্থাবর-অস্থাবর পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিআরটিএ নোয়াখালী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. ফারহানুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গতকার বুধবার মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. রফিকুজ্জামান। দুদকের গণমাধ্যম শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফারহানুল ইসলাম নামে বিআরটিএর ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় তার ভাই রায়হানুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার ছয় বছরেই বিআরটিএ নোয়াখালী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. ফারহানুল ইসলাম অবৈধ উপায়ে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ১৩ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। ফারহানুল ইসলাম নিজের, তার ভাই মো. রায়হানুল ইসলাম, মা লুৎফুন নাহারের নামে মোট চারটি ব্যাংক হিসাব এবং দুটি ক্রেডিট কার্ডের হিসাব খুলে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত টাকা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অপরাধ করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিএর এ কর্মকর্তা ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনটি ব্যাংক ও একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব ও ক্রেডিট কার্ড হিসাবসহ ১০টি হিসাব তার মা ও ভাইয়ের নামে পরিচালনা করেন।

ফারহানুল ছয়টি হিসাবে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে অর্জিত ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লেনদেন করেন। তিনি ২০১২ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর আট মাসে ছয়টি ব্যাংক হিসাব খোলেন। এর মধ্যে একটি ব্যাংকের গুলশান শাখার সঞ্চয়ী হিসাবেই জমা করেন ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এছাড়া একই শাখার চলতি হিসাবে ১৪ লাখ, ওই ব্যাংকের ভিসা ক্রেডিট কার্ডের হিসাবে ১৮ লাখ, মাস্টার ক্রেডিট কার্ড হিসাবে ২৮ লাখ ও তার ভাই রায়হানুল ইসলামের নামে একই শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাবে ১ কোটি ১৩ লাখ, আরেকটি ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী হিসাবে ১১ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।

মা লুৎফুন নাহারের নামে একটি ব্যাংকের মিরপুর-১০ সার্কেল শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গৃহঋণ হিসাবে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারহানুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানাধীন রামদয়াল চরআলগী এলাকায়। ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি বিআরটিএর সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেন। দীর্ঘদিন ছিলেন মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ে। গত বছর ২ নভেম্বর তিনি নোয়াখালী সার্কেলে বদলি হন।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে রায়হানুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তারা। মামলার তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেলে সেসব যোগ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত