সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির নিন্দা

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০২ এএম

জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নির্বাচিত নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি। প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাঈনুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানানো হয়।

সভায় বলা হয়, প্রচলিত আইনে কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু শুধু একটি পেশার সব সংগঠনের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাও এই সিদ্ধান্ত বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ঢালাও ব্যাংক হিসাব তলবে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এমনকি নজিরবিহীনভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে; যা কখনো কোনোকালে ঘটেনি।

সভায় আরও বলা হয়, নির্বাচিত সাংবাদিক নেতাদের জনসমক্ষে হেয় ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাব সাংবাদিক সমাজকে হেয় প্রতিপন্নকারী এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনের নির্বাচিত নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় ডিআরইউর উদ্বেগ : ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল বৃহৎ ছয় সংগঠনের ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটি। গতকাল বুধবার ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটি এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটি মনে করে, কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যক্তিগত দুর্নীতি বা অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশার সব সংগঠনের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাও এ সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যমূলক। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে। সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। বিষয়টি কিছুটা যুক্তিসংগত হতো যদি অন্যান্য পেশাজীবী সব সংগঠনের সব নির্বাচিত নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হতো। কিন্তু তা না করে শুধু সাংবাদিক নেতাদের নামে এ সিদ্ধান্ত সুস্থ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি হুমকির শামিল।

ডিআরইউ মনে করে, কোনো বিশেষ মহলের পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দুর্নীতিবাজ আমলাচক্র এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটি সন্দেহ পোষণ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত