টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্যাকবলিত। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা নৌকা ও ভেলা নিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া নৌকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থসেবা দিয়ে যাচ্ছেন মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ১৩টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এগুলোতে ১৩ জন চিকিৎসকসহ প্রায় ১৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে ৩টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্যাকবলিত। বন্যাকবলিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে ফতেপুর, বহুরিয়া ও ভাতগ্রাম এবং বাওয়ার কুমারজানী, চৌরঙ্গী বাজার, ডোকলাহাটি, বুড়িহাটীসহ ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক।
এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আওতাভুক্ত এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর বন্যাকবলিত। বন্যাকবলিত এসব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত এবং কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দুই সপ্তাহ ধরে নিজেদের উদ্যোগে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও ভেলায় করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। তারা নৌকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আফরোজা ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানি ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করায় এক সপ্তাহ পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি।’ এখন পানি মাড়িয়ে ও নৌকায় করে কর্মস্থলে গিয়ে সেবাদান অব্যাহত রেখেছেন বলে তিনি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বিঘিœত হলেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নৌকা-ভেলায় করে কর্মস্থলে যাতায়াত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্যাকবলিত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকেও সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছেন।
