খুলনায় ইউপি নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সহিংসতা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫২ পিএম

খুলনার ৩৪টি ইউনিয়নের নির্বাচন হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। নির্বাচন নিয়ে প্রচার প্রচারণা এখন শেষের দিকে। ভোটের সময় যতই এগিয়ে আসছে খুলনায় ততই বাড়ছে সহিংসতা। আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মূলত এই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছেন। হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শ্রেণির নেতাকর্মীরা বলছেন, ইউপি নির্বাচনে ১১ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। যে সব নেতাকর্মী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ও নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে কাজ করছে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ না নিলে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে হুঁশিয়ারও করা হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও সতর্কতার পরও বিদ্রোহ দমন হচ্ছে না। তাই ভোটের মাঠ দখল রাখতে ও জিততে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর নির্বাচনী সহিংসতায় দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটিতে দু’পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারহানা হালিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া গাজীর সমর্থকদের মধ্যে ওই দিন দুপুরে সেনহাটি পুলিশ ক্যাম্পের সামনে বাগ্বিত-া হয়। এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা। কয়েকটি বাড়ি ও চায়ের দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর সেনহাটী ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ফারহানা হালিম বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ আ’লীগের বিদ্রোহী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া গাজীকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

অপরদিকে, এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়নের সৈয়দের মোড়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী খায়রুল ইসলাম খান জনিসহ ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এছাড়া কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের পোস্টার টানানো ও প্রচারণার সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছের আলী মোড়লের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। নৌকার প্রচারে মাইক ভাঙচুরে বাধা দিলে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয় ৮ জন। একই দিন দাকোপের পানখালী ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা গ্রামে নৌকা ও ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ১৫৬ জন। ৩০৬টি ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী এক হাজার ৪৮১ জন। সংরক্ষিত সদস্য পদে ৪৬৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।

খুলনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার অধিকারী বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে।

খুলনা জেলা জ্যৈষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা এম মাজহারুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি চলছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত