বহুল আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি অস্বাভাবিক ছাড়ে পণ্য বিক্রি করে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি ও দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রথম থেকেই তারা ছিল লোকসানি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। গ্রাহক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দেনা শোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে দেনাসহ কোনো প্রতিষ্ঠিত বিদেশি কোম্পানির কাছে ইভ্যালিকে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল, এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে দেউলিয়া ঘোষণারও পরিকল্পনা ছিল প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. রাসেলের। বর্তমানে ইভ্যালির বিশাল দেনা রাসেলের সব সম্পত্তি বিক্রি করেও মেটানো সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে রাসেলকে গ্রেপ্তারে আরও বিলম্ব হলে প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে যত গ্রাহক তৈরি হতো, দায় ততই বাড়ত। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা বলেন।
এর আগে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় আরিফ বাকের নামে এক ভুক্তভোগীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পণ্যের জন্য আগাম অর্থ দিয়ে না পাওয়ার পাশাপাশি ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ করা হয় মামলাতে।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম গতকাল রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। গতকাল রাসেল ও তার স্ত্রীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই ওহিদুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকার মহানগর আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ এবং জে আর খান রবিন এর বিরোধিতা করে দুই আসামির জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে রাসেল ও শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। এছাড়া বিভিন্ন আলোচনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। এ প্রতিষ্ঠানটির ই-কমার্সের নামে নেতিবাচক ব্যবসার ফলে দেশব্যাপী লাখ লাখ মানুষ প্রতারিত। গত বৃহস্পতিবার এক ভুক্তভোগী প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এছাড়া আরও বেশ কিছু ভুক্তভোগীর অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, তারা বিভিন্ন সময়ে ইভ্যালির অফিসে গিয়ে অপমান, হেনস্থা ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-২-এর অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার বিভিন্ন বিষয় ও কৌশল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
রাসেল ও শামীমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ইভ্যালির কারসাজির মূল হোতা গ্রেপ্তার মো. রাসেল। যিনি প্রতিষ্ঠানটির সিইও এবং স্ত্রী শামীমা নাসরিন তার অন্যতম সহযোগী। রাসেল ২০০৭ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং পরে ২০১৩ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন বলে জানান। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। ২০১১ সালে তিনি ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি শুরু করেন। তিনি প্রায় ছয় বছর ব্যাংকে চাকরি করেন। ২০১৭ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি প্রায় এক বছর শিশুদের ব্যবহার্য একটি আইটেম নিয়ে ব্যবসা করেন। পরে ব্যবসা বিক্রি করে দেন। ২০১৮ সালে আগের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন, ইভ্যালির ব্যবসায়িক অবকাঠামো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, ভাড়া করা স্পেসে ধানম-িতে প্রধান কার্যালয় ও কাস্টমার কেয়ার স্থাপন করেন। একইভাবে ভাড়া করা জায়গায় আমিনবাজার ও সাভারে দুটি ওয়্যারহাউজ চালু করেন। কোম্পানিতে একসময় প্রায় দুই হাজার ব্যবস্থাপনা স্টাফ ও ১ হাজার ৭০০ অস্থায়ী কর্মচারী কাজ করলেও ব্যবসার খারাপ অবস্থার কারণে বর্তমানে স্টাফ ১ হাজার ৩০০ এবং অস্থায়ী পদে প্রায় ৫০০ জন কর্মী দাঁড়িয়েছে। কর্মচারীদের একপর্যায়ে মোট মাসিক বেতন বাবদ দেওয়া হতো প্রায় ৫ কোটি টাকা, যা বর্তমানে দেড় কোটিতে দাঁড়িয়েছে। গত জুন থেকে অনেকের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিনি ও তার স্ত্রী পদাধিকারবলে নিজেরা মাসিক ৫ লাখ টাকা করে বেতন নিয়ে থাকেন। তারা কোম্পানির অর্থে ব্যক্তিগত দুটি দামি গাড়ি (রেঞ্জ রোভার ও অডি) ব্যবহার করেন। এছাড়া কোম্পানির প্রায় ২৫-৩০টি যানবাহন রয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ে সাভারে রাসেলের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জায়গা-জমিসহ অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। তারা দুজন (রাসেল ও শামীমা) জানান, ইভ্যালির বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি গেটওয়েতে গ্রাহকের ৩০-৩৫ কোটি টাকা আটকে আছে বলে গ্রেপ্তাররা উল্লেখ করেছেন। ওই অর্থ কোম্পানির নয়। এছাড়া সাভারে রাসেলের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ও নিজের করা সম্পত্তির পরিমাণ ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা।
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা ৪০৩ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছিল জানিয়ে র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদের চলতি সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন পণ্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ২১৪ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন গ্রাহক ও কোম্পানির কাছে বকেয়া প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থার সূত্রে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ দায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আরও দায়দেনা রয়েছে। এর সর্বমোট পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে গ্রেপ্তাররা জানান। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লোকসানি কোম্পানি। কোনো ব্যবসায়িক লাভ করতে পারেনি। গ্রাহকের অর্থ দিয়েই যাবতীয় ব্যয় ও খরচ নির্বাহ করা হতো। ফলে দেনা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল আরও জানান, ইভ্যালি ছাড়াও তার আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে ই-ফুড, ই-খাতা, ই-বাজার ইত্যাদি। ইভ্যালির ব্যবসায়িক কাঠামো শুরু হয়েছিল যৎসামান্য নিজস্ব বিনিয়োগ দিয়ে। রাসেলের ব্যবসায়িক কর্মপন্থা ছিল তৈরিকারক ও গ্রাহক চেইন বা নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়া। তিনি বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের অফার দিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রলুব্ধ করতেন। যাতে দ্রুততম সময়ে ক্রেতা বৃদ্ধি সম্ভব হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইভ্যালির গ্রাহক সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। তিনি বিভিন্ন লোভনীয় অফারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে এতসংখ্যক গ্রাহক সৃষ্টি করেছেন। ইভ্যালির বিভিন্ন লোভনীয় অফারগুলো হলো সাইক্লোন অফার (বাজার মূল্যের অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রয়), ক্যাশব্যাক অফার (মূল্যের ৫০-১৫০% ক্যাশব্যাক অফার), আর্থকুয়েক অফার, প্রায়োরিটি স্টোর, ক্যাশ অন ডেলিভারি। এছাড়া বিভিন্ন উৎসবেও ছিল জমজমাট অফার। যেমন বৈশাখী, ঈদ অফার ইত্যাদি। তাছাড়া আরও রয়েছে টি-১০, ৫ ও ৩ অফার। এভাবে বিভিন্ন অফারে প্রলুব্ধ হন সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়িক বিক্রি বাড়াতে গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত চাহিদা তৈরি হয় এ ধরনের পণ্যকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। যেমন মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ, এসি, মোটরবাইক, গাড়ি, গৃহস্থলীপণ্য, প্রসাধনী, প্যাকেজ ট্যুর, হোটেল বুকিং, জুয়েলারি, স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী ও ফার্নিচার ইত্যাদি। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এসব পণ্যের মূল্য ছাড়ের ফলে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের বিশাল আকারে দায় তৈরি হয়। গ্রেপ্তাররা জানান, ব্যবসায়িক অপকৌশল ছিল নতুন গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে পুরাতন গ্রাহক ও সরবরাহকারীর দায়ের আংশিক করে পরিশোধ করা। অর্থাৎ ‘দায় ট্রান্সফার’-এর মাধ্যমে দুরভিসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছিল ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানটির নেওয়ার্কে যত গ্রাহক তৈরি হতো, দায় তত বৃদ্ধি পেত। রাসেল জেনেশুনে এই নেতিবাচক কৌশল গ্রহণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের আলোকে র্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, একটি বিদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় অফারের (১:২) আলোকে ইভ্যালির ব্যবসায়িক কর্মপন্থা তৈরি করা হয়েছে। ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে গ্রেপ্তাররা জানান, প্রথমত একটি ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। এরপর দায়সহ কোনো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে বিক্রি করে লভ্যাংশ নিয়ে নেওয়া। এ উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন দেশও ভ্রমণ করেছেন। অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির কাছে কোম্পানি শেয়ারের অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করে দায় চাপিয়ে দেওয়া। এছাড়া তিন বছর পূর্ণ হলে শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে দায় চাপানোর পরিকল্পনা নেন। তিনি জানান, দায় মেটাতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় বৃদ্ধি করার আবেদন একটি অপকৌশল মাত্র। সর্বশেষ তিনি দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে ‘দেউলিয়া ঘোষণার’ পরিকল্পনা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, ইভ্যালি পরিকল্পিতভাবে একটি পরিবার নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক গঠনতন্ত্র। একক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বেচ্ছাচারিতা করার অবকাশ রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানের দায় বৃদ্ধি হতে হতে বর্তমানে প্রায় অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। এ অচলাবস্থা থেকে উত্তরণে দিশেহারা গ্রেপ্তাররা। বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়, গ্রাহকদের কাছে দায় নিয়ে বিচলিত প্রতিষ্ঠানটি। ইভ্যালির নেতিবাচক ব্যবসায়িক কর্মপন্থা উন্মোচিত হওয়ায় অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও অর্থ ট্রান্সমিশন গেটওয়ে ইভ্যালি থেকে সরে এসেছে। ব্যবসায়িক উত্তরণ নিয়ে সন্ধিহান গ্রেপ্তাররা। এখন পর্যন্ত উত্তরণের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেনি তারা।
এদিকে গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব হলে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে থানায় আনা হয় বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ডিউটি অফিসার।
রাসেল-শামীমার মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ : ইভ্যালির মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের মুক্তির দাবিতে গতকাল রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গ্রাহক ও ব্যবসায়ী। বেলা ৩টার দিকে শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাসেল দম্পতির মুক্তি দাবি করেন। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা স্লোগানে স্লোগানে শাহবাগ মোড় মুখর রাখেন তারা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে দেয়। বিকেল ৫টার দিকে শাহবাগ মোড় বিক্ষোভকারী শূন্য হয়ে যায়।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক শেখ মো. কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইভ্যালির আন্দোলনরত গ্রাহকরা তাদের দাবিসমূহ ও বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরা শেষ হলে আমরা তাদের চলে যেতে বলি এবং তারা চলে যান।’
