ঠিকাদার ছাত্রলীগ নেতা নিতেন প্রতিবন্ধী ভাতা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩২ পিএম

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু (৩০) প্রতিবন্ধী না হয়েও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলে নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন। জানা গেছে, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি। এখন যৌথভাবে করেন ঠিকাদারি ব্যবসা, আছে মাছ চাষের প্রকল্প।

জানা গেছে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ৭৯৬ নম্বর বইয়ের বিপরীতে সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় মাইদুল ইসলাম দুই দফায় সর্বমোট ১১ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন।

আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কার্যালয় ও আদিতমারী সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর সেখানে ৯ হাজার টাকা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে জমা হয়। এই টাকা মাইদুল ওই বছর ২০ অক্টোবর উত্তোলন করেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ১৫ মার্চ একই খাত থেকে ভাতা হিসেবে আরও ২ হাজার ২৫০ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসেবে জমা হয়। সেই টাকা তিনি গত ২৩ মার্চ উত্তোলন করেন।

মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু আদিতমারীর উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বসিনটারী গ্রামের বাসিন্দা।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান মাইদুল ইসলাম রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ২০১৬ সালে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। ২০১৯ সালে তিনি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার এক কন্যাসন্তানও আছে। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। মাইদুল ইসলাম ২০১৮ সালে আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। সেই থেকে তিনি ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিবন্ধী না হয়েও আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেন। এরপর মাইদুল ইসলাম বাবু প্রতিবন্ধী কোটায় সরকারি চাকরির চেষ্টাও করছেন বলে জানা গেছে।

image

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু প্রতিবন্ধী নন, অসচ্ছলও নন। তিনি দিব্যি দামি মোটরবাইক নিয়ে চলাফেরা করেন। সব সময় পরেন দামি পোশাক।

আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু বলেন, যেটি হয়েছে তা ভুল বশত হয়েছে। উত্তোলিত টাকাও সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল হোসেন সরকার বলেন, এ বিষয়ে সম্পূর্ণ দায়ভার তার ব্যক্তিগত। যেহেতু এখন জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে এ কারণে বিষয়টি নিয়ে ফাদার সংগঠনের (আ. লীগ) নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ছাত্রলীগ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকারের প্রতিবন্ধী হিসেবে ভাতা গ্রহণের বিষয়টি আমার জানা নাই। প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নাই। এ কাজটি উপজেলা কমিটি করে থাকেন।

আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডল বলেন, যখন মাইদুল ইসলাম সরকারের ভাতার কার্ডটি হয়ে থাকে সেই সময় (১৯ দিন আগে) আমি এই উপজেলায় যোগদান করি। মাইদুল ইসলাম অনলাইনে নিবন্ধন করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত