সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশ যা এখনো আইনে পরিণত করা হয়নি সেগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ৫১টি অধ্যাদেশ এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে; যা বারবার তাগিদ দিয়েও শেষ করতে পারছে না মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন। অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করাসহ প্রধানমন্ত্রী ২০ দফা নির্দেশনা দেন। এসব নির্দেশনা গত ৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠিয়ে তা বাস্তবায়ন করার অনুরোধ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মধ্যে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও রয়েছে। এছাড়া কৃষি জমি কমতে থাকায় শিল্প স্থাপনে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে ফসলের ন্যায্যমূল্য অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার নির্দেশনায় বলেন, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভালো কাজ করলে পুরস্কার ও অন্যায় করলে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য সচিবদের সজাগ ও সম্পৃক্ত হতে হবে।
সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির অপব্যবহার যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য চুক্তির শর্তাবলি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং চুক্তিতে অস্পষ্টতা পরিহারসহ নির্দিষ্ট সময় পরপর শর্তসমূহ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সময়োপযোগী করতে হবে।
কভিড পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং প্রত্যেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে অনলাইন পাঠদান শুরু করা যায় তার উদ্যোগ নেবে। নদ-নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় খনন, নাব্য পুনরুদ্ধার, দখলমুক্তসহ জলজ অঞ্চল তীরবর্তী ভূমি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। করোনাকালীন অর্থনীতির চাকা সচল এবং উন্নয়নের গতি বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পুরাতন জেলখানার পাগলা গারদের নিকটবর্তী যে সেলে রাখা হতো সেটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
আগামীতে নিয়মিত সচিব সভা আয়োজন করাসহ প্রয়োজনে একাধিক দিনব্যাপী সচিব সভা আয়োজন করা যেতে পারে।
