অজগর ভেবে বিক্রির জন্য ধরে আনলেন রাসেল ভাইপার!

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৩ পিএম

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গড়াই নদের ডান তীরে কমলাপুর এলাকায় মৃদুল নামে এক যুবক নদীতে মাছ ধরতে যান। সেখানে খেলছিল শিশুরা। তারা তকে দেখিয়ে দেয় কাশবনের ঝাড়ে পেঁচিয়ে থাকা একটি আলাদা ধরনের সাপ। তা দেখে অজগরের বাচ্চা ভেবে জালে জড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন মৃদুল। যুবক মৃদুল সাপটি বিক্রির জন্য ধরে এনেছিলেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে স্থানীয় কয়েকজন জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা মৃদুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সাপটি কিনতে এসে কয়েকজন সাপুড়ে না নিয়েই চলে যায়। পরে রবিবার সাংবাদিক ও প্রাণীবিদ ও বন বিভাগের লোকজন এসে এটাকে বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ বলে নিয়ে যায় এবং ছেড়ে দেয়।

তবে এ বিষধর সাপ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। যদিও রাসেল ভাইপার শতবর্ষ আগেই বিলুপ্ত হয় বলে জানিয়েছিল বন বিভাগ।

সেই বিষধর রাসেল ভাইপারের আনাগোনায় পদ্মা নদীর অববাহিকায় বসতি এলাকার জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বন বিভাগ বলছে, সাপ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে বা মেরে না ফেলে আমাদের সংবাদ দিন। বন বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সূত্রমতে, গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শালদাহ গ্রামের গড়াই নদের চরে স্থানীয়রা একটি পূর্ণবয়স্ক রাসেল ভাইপার পিটিয়ে মেরে ফেলে রাখে বালুর মধ্যে। চরে ঘুরতে যাওয়া কিছু মানুষ ব্যতিক্রমী মরা সাপটি দেখে মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সবার মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মরা সাপটিকে রাসেল ভাইপার হিসেবে বিষেশজ্ঞরা শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করে জেলার বন ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ।

image

পদ্মা নদীর শাখা গড়াই নদের বামতীরে শালদাহ গ্রামের চরের বাসিন্দা আলিমদ্দিন জানান, ‘গত ২ ও ৩ তারিখে (সেপ্টেম্বর) গাঙে তিন উইঠি আসা অজগরের চাওয়ের মতো দেখতি দুইডি সাপ ছাওয়াল পাল লাঠি দিয়ে বাইড়ি মারি ফ্যালেচে; পরে শুনতি পালাম ওই সাপ নাকি খুব বিষধর রাসেল সাপ বোলে। এই কতা শুইনি একন সবাই খুব আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে’।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দেখুন, সাপ দেখলেই বা সাপে কামড়ালেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সব ধরনের সাপের কামড়ে মানুষ মরে না। বাংলাদেশে শতাধিক প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে কম-বেশি ১৫টির মতো বিষধর সাপ আছে, যেগুলো কামড়ালে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে বিষধর সাপ কামড়ালেও দেশের সব সদর হাসপাতালে এসব বিষের এন্টিভেনম আছে, যেগুলো বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়। সাপে কামড়ালে ওঝা দিয়ে চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো জরুরি। ওঝা কখনো বিষ নামাতে পারে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাপের কামড় ‘ড্রাই বাইট’ হয়। অর্থাৎ সাপ বিষপ্রয়োগ করে না। সে ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে বিষের কোনো প্রভাব পড়ে না, অথচ নাম হয় ওঝার। এ জন্য জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ছালেহ মো. সোহায়েব খান জানান, কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর থেকে উদ্ধার প্রায় সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্যের এই সাপটি রাসেল ভাইপার। এটা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বিষধর সাপ। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাপটি উজান থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পদ্মার অববাহিকায় বেশ কয়েক জেলায় এ রাসেল ভাইপারের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রকৃতিকে নিজের মতো করে থাকতে দিন। 

তিনি আরো বলেন, তবে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বিষধর সাপ ধরা পড়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত