কয়েক সপ্তাহ পরই শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে সারা জেলায় চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ।
প্রতি বছরই জমকালো আয়োজনে জেলায় শারদীয় দুর্গা উৎসব পালন করা হয়। তবে মহামারি করোনার কারণে গত বছরের মতো এবারও আনন্দ উদ্যাপনে কিছুটা ভাটা পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন পূজা উদ্যাপন কমিটির সংশ্লিষ্টরা।
জেলার কাঠালিয়া উপজেলায় ৫৪টি, রাজাপুরে ২১টি, নলছিটি উপজেলায় ২১টি ও সদর উপজেলার ৭৩টি মণ্ডপসহ এ বছর মোট ১৬৯টি মণ্ডপে পূজা উদ্যাপন করা হবে।
সরেজমিনে জেলার কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে ও অন্যান্য উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমাগুলোর কাজ ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ এবং পরে রং তুলির আঁচড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে দুর্গা প্রতিমাগুলো।
ঝালকাঠি মদনমোহন আখড়াবাড়ি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে এসেছেন ভাস্কর শ্রীবাস গাইন।
তিনি বলেন, হাতে সময় আছে বিশ দিন। এর মধ্যে মাটির কাজ, রং, পোশাক এবং অলংকার পরানোর কাজ শেষ করে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে। তাই ৫ জন মিলে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি।

সদর উপজেলার হরিসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরের দুর্গা মণ্ডপের প্রতিমা কারিগর উত্তম পাল বলেন, ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমার পরিবার। এবার এটিসহ চৌদ্দটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি।
উত্তম পাল আরও বলেন, মণ্ডপে অনেকে প্রতিমা বানায় না, তাদের জন্য বাড়িতেও কিছু প্রতিমা বানিয়ে রেখেছি যেগুলো স্বল্প মূল্যে পূজায় বিক্রি করব।
রাজাপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করতে আসা ফরিদপুরের সমীর পাল বলেন, প্রথম ধাপের কাজটি মূলত কঠিন ও দীর্ঘ সময়ের। আমরা ইতিমধ্যেই সেটি শেষ করেছি। বাকি কাজ দশ দিনের মধ্যেই শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবু তরুণ কুমার কর্মকার বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিটি মণ্ডপে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত রাখতে কমিটি প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে এবারের শারদীয় উৎসবকে বর্ণিলভাবে পালন করব আমরা।
‘এ বছর দুর্গা মায়ের কাছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।’
