নীলফামারীর ডিমলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আলমগীর হোসেনকে (২৯) মৃত্যুদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিজ্ঞ বিচারক মো. মাহবুবর রহমান।
ওই মামলার অপর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাশের আদেশ দেন বিচারক।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর হোসেন ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের বাসিন্দা।
বেকসুর খালাশেরা আলমগীরের বাবা-মা, বোন, চাচা ও ফুফু বলে জানান ওই আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী রমেন্দ্র বর্ধন বাপী।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কে ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি গ্রামের খতিবর রহমানের মেয়ে সুমি আক্তারের।
বিয়েতে যৌতুক হিসেবে জামাই আলমগীরকে দেড় লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লাখ টাকা দেয় স্ত্রীর পরিবার।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য সুমি আকতারকে প্রায় মারধর ও নির্যাতন করত স্বামী আলমগীরসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
এরই জের ধরে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাতে সুমি আক্তারকে মারধর করে শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে এবং শোয়ার খাটের পায়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে আলমগীর ও তার বাড়ির লোকজন।
এ ঘটনায় সুমির বাবা খতিবর রহমান বাদী হয়ে মেয়ে জামাই আলমগীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আলমগীরের বাবা সিরাজুল ইসলাম, মা আনোয়ারা বেগম, বোন শিল্পি বেগম, চাচা ওবায়দুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও ফুফু রওশন আরা বেগমকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল সাতজনকে অব্যাহতি দিয়ে সুমির স্বামী আলমগীর হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন ডিমলা থানা-পুলিশ।
নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী রমেন্দ্র বর্ধন বাপী বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন বিজ্ঞ বিচারক। এতে প্রধান আসামি আলমগীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন বিচারক। ওই মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাশের আদেশ দেয় আদালত।’
