হিলি স্থলবন্দরে আবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩০ পিএম

আমদানি কমার অজুহাতে আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা করে। পাঁচ দিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৫ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৯ টাকা থেকে ৩২ টাকায়।

এদিকে দাম বাড়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। মাঝে দু-এক দিন সাউথের বেলোরি জাতের পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে।

বন্দরে বর্তমানে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি পাইকারীতে (ট্রাকসেল) বিক্রি হচ্ছে ২৯ টাকা কিছু পেঁয়াজ সাড়ে ২৮ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে। যা পাঁচদিন আগে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা কেজি দরে যা পাঁচদিন আগে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আব্দুর রউফ ও ইলিয়াস আলী বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেশ কম ছিল সেময় বন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে মোকামে পাঠাতে বেশ সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকেই পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। এমন অবস্থা বিরাজ করছে যে আমরা পেঁয়াজ কিনতেই ভয় পাচ্ছি, যে দামে বন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে মোকামে পাঠাচ্ছি পরদিন কিনতে এসে আর ওই দামে পাওয়া যাচ্ছে না আবার কেজি প্রতি ১ থেকে ২ টাকা করে বাড়ছে। যার কারণে কি দামে কিনবো আর কি দামে বিক্রি করবো সেই নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোজাম হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি করে অতিরিক্ত গরমের কারণে আমদানি করা পেঁয়াজ পচে মান খারাপ হওয়ায় বাধ্য হয়ে খানিকটা কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছিল।

এছাড়াও দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫টাকার মতো কমে যাওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কমে প্রভাব পড়ে দামের উপর। এতে করে পেঁয়াজ আমদানি করে অব্যাহতভাবে লোকসান গুনতে হওয়ায় পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা কমিয়ে দেন আমদানিকারকরা।

দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে একই হারে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।

এছাড়াও পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের মোকামে পূর্বে যে দামে পেঁয়াজ ক্রয় করা হতো এখন সেখানে দাম কিছুটা বাড়ায় বাড়তি দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। মূলত বাড়তি দামে পেঁয়াজ আমদানি ও পরিমাণ কম হওয়ার কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমায় দাম বাড়ছে।

এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে ভারতের বাজারে সাউথের বেলোরি জাতের নতুন পেঁয়াজ উঠার কথা কিন্তু সেই পেঁয়াজেও পানি পাওয়ার কারণে মান খারাপ হওয়ায় সেভাবে এই জাতের পেঁয়াজ মোকামে আসছে না।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকলেও আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তবে আজও বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে, পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল দ্রুত পচনশীল পণ্য তাই কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করতে সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত