বাউল শিল্পীর মাথা ন্যাড়া করা তিন মাতব্বর গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪০ এএম

বগুড়ার শিবগঞ্জে মেহেদী হাসান (১৬) নামে এক বাউল শিল্পীকে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষকসহ তিন মাতব্বরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জুড়ি মাঝপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ও জুড়ি মাঝপাড়ার বাসিন্দা মেজবাউল ইসলাম (৫২), একই গ্রামের শফিউল ইসলাম খোকন (৫৫) ও তারেক রহমান (২০)।

স্থানীয়রা জানান, মেহেদী হাসান ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে আর্থিক অনটনের কারণে আর পড়াশোনা করতে পারেনি। এরপর পার্শ্ববর্তী ধাওয়াগীর গ্রামের মতিন বাউলের সঙ্গে পরিচয় হলে সে তার সঙ্গে চলাফেরা শুরু করে। মেহেদী হাসান গত কয়েক বছর ধরে মতিন বাউলের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাউল গান গেয়ে উপার্জিত টাকায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। মেহেদী হাসানের পরনের পোশাক এবং মাথার চুল নিয়ে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করত ওই মাতব্বররা। এসবের প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তারকৃতরা পাড়ার আরও কয়েকজনকে নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে মেহেদীর বাড়িতে যায়। তারা মেহেদীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। মাতব্বররা ওই সময় তাকে বাউল গান ছেড়ে দিতে বলে এবং মাথার চুল আবার বড় করলে তাকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দেয়।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে বাউল শিল্পীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তাৎক্ষণিক তিনি মেহেদীকে পুলিশ হেফাজতে নেন, সেই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করেন। পরে আটক তিনজনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রাতেই থানায় মামলা করেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এ কারণে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার সংবাদ পেয়েই বাউল শিল্পীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আরও দু’জন আসামি পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। অসহায় ওই বাউল শিল্পীর পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত